২০১৪ সালের ৮ জুলাই- ফুটবল ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রাত। ব্রাজিলের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ গোলের ধস এখনো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি। সেই ম্যাচে নেইমার-থিয়াগো সিলভাদের স্বপ্নভঙ্গ যেমন হয়েছিল, তেমনি গড়ে উঠেছিল জার্মানির এক নতুন সাম্রাজ্য।
সেই দলটি পরে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই ‘স্বপ্নের জার্মানি’। আজ এক দশক পর সেই স্কোয়াডের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আর মাঠে নেই, কেউ অবসর নিয়েছেন, কেউ কোচিং বা মিডিয়ায়, আবার কেউ এখনো খেলছেন ভিন্ন ভূমিকায়।
আরও পড়ুন
নিচে দেখে নেওয়া যাক সেই ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের জার্মান স্কোয়াডের নায়করা এখন কোথায়-ম্যানুয়েল নয়ার (গোলরক্ষক)এখনও পেশাদার ফুটবলে সক্রিয়। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন। ২০২৪ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নাম।
ফিলিপ লাম (ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক)২০১৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান। বর্তমানে তিনি ফুটবল প্রশাসন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ইউরোপিয়ান ফুটবলে বড় টুর্নামেন্ট পরিচালনার ভূমিকাতেও কাজ করেছেন।
জেরোম বোয়াটেং (ডিফেন্ডার)বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়ার পর বিভিন্ন ইউরোপীয় ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাবে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে খেলছেন।
ম্যাটস হামেলস (ডিফেন্ডার)বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সফল অধ্যায় শেষে এখনও ইউরোপীয় ফুটবলে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হিসেবে খেলছেন।
বেনেডিক্ট হ্যোভেডেস (ডিফেন্ডার)২০২০ সালে অবসর নেন। বর্তমানে ফুটবল বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত।
সামি খেদিরা (মিডফিল্ডার)২০২১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে মিডিয়া বিশ্লেষক ও ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।
বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার (মিডফিল্ডার)২০১৯ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করেন। বর্তমানে টেলিভিশন বিশ্লেষক ও ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত মুখ।
টনি ক্রুস (মিডফিল্ডার)২০১৪ সালের সেমিফাইনালে জোড়া গোল করা এই তারকা ২০২৪ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেন। এখন তিনি নিজের একাডেমি ও মিডিয়া প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন।
মেসুত ওজিল (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার)২০২৩ সালে অবসর ঘোষণা করেন। বর্তমানে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত প্রকল্পে ব্যস্ত।
থমাস মুলার (ফরোয়ার্ড)এখনো বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলছেন। ক্লাব ফুটবলে অভিজ্ঞতার প্রতীক হলেও জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছেন।
মিরোস্লাভ ক্লোসা (স্ট্রাইকার)বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১৬ সালে অবসর নিয়ে বর্তমানে কোচিং পেশায় যুক্ত।
আন্দ্রে শুরলে (ফরোয়ার্ড)জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড ২০২০ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই অবসর নেন। বর্তমানে খেলাধুলার বাইরে স্বাস্থ্য ও অ্যাডভেঞ্চার প্রজেক্টে যুক্ত।
পার মের্টেসাকার (ডিফেন্ডার)২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার পর এখন যুব উন্নয়ন ও ফুটবল ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন।
জুলিয়ান ড্রাক্সলার (ফরোয়ার্ড)বর্তমানে কাতারের আল আহলি ক্লাবে খেলছেন। ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।
৭-১’র সেই রাত শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, ফুটবল ইতিহাসের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই জার্মান দলের প্রায় সবাই এখন ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে—কেউ কিংবদন্তি হয়ে অবসর নিয়েছেন, কেউ কোচিংয়ে, কেউ বা এখনও মাঠে লড়ছেন শেষ সময়ের ফুটবল জীবন নিয়ে।
এএডি/