বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম হলো বার্মিংহামের এজবাস্টনে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তার দুর্দান্ত অর্ধশতক আর পরে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েছে টাইগ্রেসরা।
গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। দ্বিতীয় ওভারেই মারুফা আক্তারের শিকার হন ফিবে মলকেনবোয়ার। এরপর ফারিহা তৃষ্ণা ফেরান হিদার সিগার্সকে। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও দলকে সামনের দিকে টেনে নেন অধিনায়ক বাবেতে ডি লিডে। ৪৫ বলে ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন ডি লিডে।
অর্ধশতক পূরণের পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ডি লিডে। শেষ দিকে আইরিস জুইলিং ও সিলভার সিগার্সের ছোট ছোট ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৯ রান সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ডস। ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তার মাত্র আট ওভারে যোগ করেন ৬৭ রান। অভিষেক ম্যাচেই দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে খেলেন জুয়াইরিয়া। পেস ও স্পিন দুই ধরনের বোলারকেই সমান তালে আক্রমণ করেন তিনি।
মাত্র ৩২ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তুলে নেন অর্ধশতক। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কায়। অন্যপ্রান্তে দিলারা আক্তারও ২৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে ম্যাচ তখনও অনেক বাকি। ৬৭ রানে বিনা উইকেটে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎই চাপে পড়ে যায়। ক্যারোলিন ডি ল্যাঙ্গে টানা দুই বলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
অর্ধশতকের পরপরই জুয়াইরিয়াকে ফেরানোর পর প্রথম বলেই বোল্ড করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে। এরপর সিলভার সিগার্স বোল্ড করেন দিলারাকে। আর ফ্রেদেরিক ওভারডেইকের দুর্দান্ত সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন সোবহানা মোস্তারি। মুহূর্তেই ৬৭ বিনা উইকেট থেকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮৫ রানে ৪ উইকেট।
চাপের এই মুহূর্তে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। দুজনই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে তোলেন। নিয়মিত সিঙ্গেল-ডাবল নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শারমিন ও স্বর্ণা।
সময়ের আলো/জেডি