একজন শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী থেকে যাত্রাদলের একজন সাহসী নারীর চরিত্রে রূপান্তর- এই যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার জন্য। নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এ প্রিন্সেস রোজী চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের শিল্পীসত্তার সঙ্গেই যেন লড়াই করতে হয়েছে তাকে।
সম্প্রতি চলচ্চিত্রটির ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে চরিত্রটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ভাবনা।
তার ভাষ্য, প্রথমবার চরিত্রটির প্রস্তাব পাওয়ার পরই দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। কারণ, শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন শিল্পীর কাছে যাত্রাশিল্পের কিছু ভঙ্গি ও উপস্থাপনা একেবারেই অচেনা ছিল। তাই শুরুতে নিজেকে এই চরিত্রে কল্পনা করতেও কষ্ট হয়েছিল।
আরও পড়ুন
তবে শেষ পর্যন্ত চরিত্রের প্রতি ভালোবাসাই তাকে সাহস জুগিয়েছে। সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা দর্শকের প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে একসময় দ্বিধাগ্রস্ত হলেও পরে অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেন তিনি।
ভাবনার মতে, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করা। সেই লক্ষ্যেই নির্মাতা আসিফ ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রের নানা দিক, মনস্তত্ত্ব ও গল্প নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। দিনের পর দিন আলোচনা, প্রস্তুতি ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় ‘প্রিন্সেস রোজী’।
অভিনেত্রী জানান, বড় পর্দায় নিজের সেই রূপ প্রথমবার দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। এমনকি কিছু দৃশ্যে নিজেকে দেখে লজ্জাও পেয়েছেন, কারণ চরিত্রটি তাকে এতটাই বদলে দিয়েছিল যে নিজের পরিচিত সত্তাকেও চিনতে কষ্ট হচ্ছিল।
পোস্টের শেষাংশে অভিনয়ের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন ভাবনা। তিনি বলেন, অভিনয়ই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই পথ কঠিন হলেও তিনি সেটাকেই বেছে নিয়েছেন। প্রতিযোগিতার দৌড়ে নয়, বরং চরিত্রের ভেতর বেঁচে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
উল্লেখ্য, যাত্রাশিল্পের পটভূমিতে নির্মিত ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলচ্চিত্রটি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আর্টকোর’ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়। সেখানে ‘প্রিন্সেস রোজী’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন আশনা হাবিব ভাবনা।
এএডি/