ভারতে মুসলিম নারী হেনস্থার অস্ত্র এআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভিডিওটি প্রথমবার দেখে সামরিন আইয়ুব রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ভারতের শাসনাধীন কাশ্মিরের এই ফ্রিল্যান্স মডেল গত বছর ফোনে স্ক্রল করার

2026-06-16T02:56:59+00:00
2026-06-16T02:56:59+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতে মুসলিম নারী হেনস্থার অস্ত্র এআই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২:৫৬ এএম   (ভিজিট : ১২)
সংগৃহীত ছবি
ভিডিওটি প্রথমবার দেখে সামরিন আইয়ুব রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ভারতের শাসনাধীন কাশ্মিরের এই ফ্রিল্যান্স মডেল গত বছর ফোনে স্ক্রল করার সময় তার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি ক্লিপ পান, যা তখন ভাইরাল। টেলিভিশন সংবাদ প্রতিবেদনের মতো ধারাভাষ্য, স্ক্রলিং ক্যাপশন এবং শিরোনামসহ ভিডিওটিতে যেন তার দিল্লির জীবনের গল্প বলা হচ্ছিল। কিন্তু পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো ও বানোয়াট।

২৪ বছর বয়সি আইয়ুব বলেন, এটি ছিল রীতিমতো স্টকিং (পিছু নেওয়া)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টার থেকে শেষ সেমিস্টার পর্যন্ত তারা আমার জীবনকে অনুসরণ করেছিল। ভিডিওটিতে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রজীবনের বিভিন্ন ছবি জোড়া দেওয়া হয়েছিল যেমন, ক্যাম্পাস জীবনের সাধারণ মুহূর্ত, যেমন গ্রুপ প্রজেক্ট, বিদায় অনুষ্ঠান এবং সহপাঠীদের সঙ্গে তোলা সেলফি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভয়েসওভারে মিথ্যা দাবি করা হয় যে, তিনি একজন মুসলিম নারী যিনি হিন্দু পুরুষদের কাছে ‘দেহ বিক্রি’ করছেন। এমনকি ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের ভুল পরিচয় দেওয়া হয় এবং তার নিজের ভাইকে ‘দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আইয়ুব বলেন, এটি এত বাস্তব মনে হচ্ছিল যে, কেউ যদি এমনকি আমার বাবা-মাও ভিডিওটি দেখতেন, তবে তারা এটিকে সত্যি বলেই মনে করতেন।

তিনি এমন বেশ কয়েকজন মুসলিম নারীর একজন, যারা গবেষকদের ভাষায় একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতার শিকার হয়েছেন : এআই ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ছবি ও প্রপাগান্ডা তৈরি করা। আলজাজিরা এমন বেশ কয়েকজন মুসলিম নারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল যারা এ ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। লজ্জা এবং পুনরায় ট্রমার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় তারা কথা বলতে রাজি হননি।

যৌন কল্পনাকে ছবিতে রূপান্তর : মুসলিম নারীদের ছবি ও ভিডিওকে যৌন রূপ দেওয়ার এই প্রবণতা ভারতে এআই শাসন-সংক্রান্ত বৈশ্বিক আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরই নয়াদিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মূলত উদ্ভাবন ও আইনি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ)-এর একটি গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত ১,৩২৬টি এআই-তৈরি ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, মুসলিম নারীদের যৌন উত্তেজক ছবিগুলো সবচেয়ে বেশি এনগেজমেন্ট পেয়েছে। পুরো প্ল্যাটফর্মজুড়ে ৬.৭ মিলিয়নেরও বেশি মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারঅ্যাকশন) হয়েছে।

সিএসওএইচের ডিজিটাল গবেষণা বিশ্লেষক এবং গবেষণার সহ-লেখক জেনিথ খান বলেন, জেনারেটিভ এআই যৌন কল্পনাকে দ্রুত ও বিনা খরচে ছবিতে রূপান্তর করা সম্ভব করেছে। ইমেজ জেনারেটর এবং ডিপফেক প্রযুক্তি খুব কম প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বিদ্বেষপূর্ণ বর্ণনাকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল উপাদানে রূপান্তর করতে পারে।

গবেষকরাই কেবল এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছেন না। মুম্বাই-ভিত্তিক আরএটিআই ফাউন্ডেশনের অনলাইন নিরাপত্তা হেল্পলাইন ‘মেরি ট্রাস্টলাইন’-এও এমন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। মিডিয়া যেখানে কেবল সেলিব্রিটি ও রাজনীতিবিদদের দিকে নজর দেয়, সেখানে সাধারণ নারীরাও এমন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। যদিও ছবিগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি, তবু সেগুলো বাস্তব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হেল্পলাইনের ফ্রন্ট-লাইন কাউন্সিলর সালমান মুজাওয়ার জানান, এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে মেরি ট্রাস্টলাইন ৪৮২টির বেশি মামলা হ্যান্ডেল করেছে, যার প্রায় ১০ শতাংশে ডিজিটালভাবে ম্যানিপুলেট করা উপাদান ছিল। এআই টুলগুলো সহজলভ্য হওয়ায় এই হার বাড়ছে। মুজাওয়ার বলেন, লজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে এই ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায়। এমনকি ঘনিষ্ঠ পরিবারকেও এসব কথা জানানো হয় না, বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা তো দূরের কথা।

রাজনীতির পর্নোগ্রাফিকরণ : সামরিন আইয়ুবের ভিডিওটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তার চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, হুমকি এবং কল আসতে থাকে। তিনি বলেন, এটি একটি ডিজিটাল লিঞ্চিং বা গণপিটুনির মতো মনে হচ্ছিল। এক বা দুইটা নয়, ডজনখানেক অ্যাকাউন্ট ভিডিওটি সব জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং শত শত মানুষ তা শেয়ার করছিল।

সিএসওএইচের তথ্যে দেখা যায়, এআই-তৈরি মিমগুলোতে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক পরা অবস্থায় যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের লক্ষ্য করে বানানো পর্নোগ্রাফিক ছবিও রয়েছে। গবেষকরা একটি পুনরাবৃত্ত ভিজ্যুয়াল প্যাটার্ন লক্ষ্য করেছেন যেখানে একজন ‘মুসলিম-কোড করা নারী’কে একজন ‘হিন্দু-কোড করা পুরুষ’-এর সঙ্গে দেখানো হয়।

খান বলেন, এই আখ্যানগুলোতে প্রায়ই মুসলিম পুরুষদের সহিংস বা নৈতিকভাবে দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে মুসলিম নারীদের বশ্যতা স্বীকারকারী বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের পুরুষদের দ্বারা ‘উদ্ধারকারী’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। গবেষকদের মতে, এই চিত্রগুলো রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে নয়, বরং এটি তার একটি অংশ।

মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই ঘটনাকে নারীদের এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘রাজনীতির পর্নোগ্রাফিকরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ডানপন্থি ডিজিটাল সংস্কৃতিগুলো হাস্যরস, মিম এবং যৌনতাকে ব্যবহার করে অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলে।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ইকোসিস্টেমের পেছনে কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং গভীর আদর্শিক শিকড় রয়েছে। গবেষক সোমা বাসু যুক্তি দিয়েছেন যে, মুসলিম নারীদের শরীর এখন সাম্প্রদায়িক আধিপত্যের যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তিনি একে ‘সুল্লি ডিলস’ এবং ‘বুল্লি বাই’ বিতর্কের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে মুসলিম নারীদের নিয়ে মক-নিলাম বা ভুয়া নিলামের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল। তিনি একে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন এবং দলের ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবকদের অনানুষ্ঠানিক সমর্থনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। 

জেনিথ খান বলেন, অনেক দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীকে পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়। তাই মুসলিম নারীদের দৃশ্যত আক্রমণ করা মানে মুসলিমদের নিচু হিসেবে উপস্থাপন করা। নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা নিয়ে খান বলেন, একজন মুসলিম নারী এবং গবেষক হিসেবে এটি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি যখন হিজাব পরিহিত কোনো নারীকে সফট পর্নোগ্রাফিতে উপস্থাপিত হতে দেখি, তখন আতঙ্কিত হই। একজন নারী হিসেবে আপনি প্রতিদিন নারীবিদ্বেষের শিকার হন, এটি আপনার পরিচয়ের ওপর নতুন এক স্তরের আঘাত।

এই উদ্বেগের জবাবে বিজেপি রাজনীতিবিদ আতিফ রশিদ বলেছেন, এআই ‘ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয়ভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে’। তিনি এর অপব্যবহার রোধে কঠোর প্রবিধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ডিপফেক এবং যৌন উত্তেজক বিষয়বস্তুকে ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তিনি পুরো বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিরোধিতা করে বলেন, বিজেপি ‘সব ধর্মের নারীদের সম্মান করে’ এবং ‘সুল্লি ডিলস’ ও ‘বুল্লি বাই’ মামলা আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়েছে।

এআই বর্ধিত প্যাটার্ন : ২০২১ ও ২০২২ সালের ‘সুল্লি ডিলস’ ও ‘বুল্লি বাই’ ঘটনার সময় এডিট করা ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সে সময় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তারা জামিন পেয়ে যায়। গবেষকরা মনে করেন, জেনারেটিভ এআইর উত্থান মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানির মাত্রা ও গতি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করে সহজেই ছবি আপলোড করে যৌন উত্তেজক ছবি তৈরি করা সম্ভব। এই টুলগুলো অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং এর জন্য কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।

সিএসওএইচের গবেষণা ও আউটরিচ পরিচালক ইভিয়ান লেইডিগ বলেন, ভারতে নারীদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের হয়রানি করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখনকার পার্থক্য হলো এর পরিধি এবং এআই টুলের মাধ্যমে যে ব্যাপক ক্ষতি সম্ভব হচ্ছে তা।

আগে থেকেই যারা হয়রানির শিকার, তাদের জন্য এআই-তৈরি ছবির আবির্ভাব নতুন এক ভীতির সঞ্চার করেছে। অ্যাক্টিভিস্ট আফরিন ফাতিমা, যিনি ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে কথা বলার পর থেকে অনলাইনে হেনস্থার শিকার, তিনিও ‘সুল্লি ডিলস’-এ নিজের ছবি আপলোড হতে দেখেছিলেন।

চৌদ্দ বছর পরও সেই হয়রানি কমেনি। বেনামি অ্যাকাউন্টগুলো থেকে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কয়েক দিন পরপরই কোনো না কোনো র‌্যান্ডম অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ষণ বা হত্যার হুমকি আসে। এআই-তৈরি যৌন উত্তেজক ছবির সম্ভাবনা সেই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, যখন আমি এই ছবিগুলোর কথা পড়ি, তখন এটি খুব ব্যক্তিগত মনে হয়। এটি এক ধরনের ভয়ের মনোবিজ্ঞান (ফিয়ার সাইকোসিস) তৈরি করে।

আমি নিরাপদ বোধ করি না : ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামরিন আইয়ুবের পেশাগত সুযোগগুলো কমতে থাকে। তিনি বলেন, একজন মডেল হিসেবে আপনার সুনাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার প্রোফাইলে নেতিবাচক মন্তব্য দেখা যায়, তবে ব্র‍্যান্ডগুলো আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয়।

কয়েক মাস ধরে ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো তার প্রোফাইল ভরে ফেলে, যার ফলে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টরা সরে যায়। এই হয়রানি সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কও বদলে দিয়েছে। আইয়ুব বলেন, ইনস্টাগ্রাম আমার জন্য একটি নিরাপদ জায়গা ছিল। এখন আমি আর সেখানে নিরাপদ বোধ করি না, এবং আমি কী পোস্ট করি তা সীমাবদ্ধ করে দিয়েছি।

তিনি দিল্লির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার বন্ধুরা মিলে অ্যাকাউন্টগুলো রিপোর্ট করায় সেগুলো সরানো সম্ভব হয়। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বিদ্যমান আইন এআই-তৈরি বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছে। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের আইনজীবী অপর্ণা গুপ্ত বলেন, ছবিটি বানোয়াট হলেও ক্ষতি বাস্তব।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু যদি সেই ছবি সম্পূর্ণ এআই-তৈরি হয়, তবে এই ধারা কার্যকর নাও হতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা পায়, যদি তারা রিপোর্ট পাওয়ার পর বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলে। কিন্তু গুপ্ত জানান, অনেক ভুক্তভোগী রিপোর্ট করার পর সেই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতেই হিমশিম খান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন, অ্যালগরিদম এবং আইনি কাঠামোতে কাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে, এআই-তৈরি হয়রানি যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় আক্রান্ত মুসলিম নারীদের জন্য বিচার বা জবাবদিহি পাওয়া দুষ্কর। আইয়ুব বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি চেয়েছিলাম ওই অ্যাকাউন্টগুলোর পেছনের মানুষদের খুঁজে বের করতে। তারা আমাকে না চিনেও আমার সুনাম ধ্বংস করে দিয়েছে।

আরবিএন 



  বিষয়:   ভারত  মুসলিম নারী  এআই 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: