বরিশালের বাবুগঞ্জে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পান। গত সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক ও গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিরা হলেন, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা এবং তার সহযোগী একই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।
ভুক্তভোগী মো. জহিরুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বালু ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির একজন সদস্য।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির মোল্লা ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই নজরুল ইসলামের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। সোমবার রাতে জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে জাকির মোল্লাকে রেইনট্রিতলা এলাকায় ডাকেন। জাকির মোল্লা তার সহযোগী রাজ্জাক মোল্লাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোমাত্রই ওত পেতে থাকা স্থানীয় জনতা তাদের ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয় এবং আটকে রাখে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, গণপিটুনির একপর্যায়ে অভিযুক্ত দুই নেতা ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দিলে স্থানীয় জনতা তাদের ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, শালিস-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বালু ব্যবসা নিয়ে একসঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, বিএনপি কখনো চাঁদাবাজি বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, স্থানীয়রা মুঠোফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদপাশা ইউনিয়নের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই