বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। বর্তমানে এর সদস্য দেশ ১৯৬টি। ইন্টারপোলের মূল কাজ বিশ্বজুড়ে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং বিভিন্ন দেশের পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করা। ইন্টারপোল পুলিশের মতো সরাসরি কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না, বরং সদস্য দেশগুলোর পুলিশের মধ্যে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে।
রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার হওয়ার খবরে আবার সামনে আসে ইন্টারপোলের নাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। আমিরাত এরই মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছে।
বেনজীর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সামনে আসছে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া কেমন এ বিষয়টি। কীভাবে, কবে তাকে দেশে ফেরানো হবে, ফেরানো আদৌ সম্ভব কি না- এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্নের বিষয় সামনে আসতেই দেখা যাক, দেশের বাইরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার হওয়া আগের আসামিদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে?
দুবাই থেকে ফেরত এসেছেন যারা
২০২৩ সালের ২৩ জুন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মাঝমাঝি অন্যতম আসামি মহসিন মিয়াকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। একই মামলার অন্যতম আসামি আরিফ সরকারকেও গত ৬ মে দুবাই থেকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম দুবাই গিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করানো এক বিষয় আর পলাতককে দেশে ফেরানো আরেক বিষয়। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে রেড নোটিশের তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামি আছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশকে দেশে ফেরানো যায়নি।
বেনজীরকে কী ফেরানো সম্ভব
এক্ষেত্রে বড় উদাহরণ আরাভ খান নামে পরিচিত রবিউল ইসলাম। পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খান হত্যা মামলায় ২০২৩ সালের আরাভ খানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু তাকে দেশে ফেরানো জটিল হয়ে যায়। কারণ, তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার তথ্য আসে। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও অন্য দেশের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো যায়নি।
আরেকটি উদাহরণ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ। ২০১৯ সালে তাকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের খবর আসে। তখন বাংলাদেশ তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তার অবস্থান নিয়েই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখন বলেছিল, তিনি ভারতীয় ও ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আনা যায়নি।
জিসানের ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন পুলিশের এমন দুজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে এক গণমাধ্যমকে জানান, দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসানের সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য ছিল বাংলাদেশের পুলিশের কাছে। কিন্তু দুবাইয়ের পুলিশের কাছে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। তখন দুবাই পুলিশ জিসান সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য চেয়েছিল, যা নানা কারণে দিতে পারেনি বাংলাদেশের এনসিবি। এ কারণে জিসানকে তখন ফেরানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা বড় অগ্রগতি হলেও দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। কারণ, রেড নোটিশ আর রেড অ্যালার্ট ভিন্ন বিষয়। পুলিশের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আটক বা শনাক্ত করা ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। এটি মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালত, মামলার নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে।
বেনজীরকে ফেরাতে বাংলাদেশকে সাধারণত কয়েক ধরনের নথি পাঠাতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র বা তদন্তসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ, তার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, অপরাধের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইন ও শাস্তির বিধান, আদালতের আদেশ এবং প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি। এসব নথি আমিরাত কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য ভাষায় অনুবাদ ও প্রত্যয়ন করতে হতে পারে।
প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রথমে নথিপত্র যাচাই করবে। এরপর বিষয়টি আদালতের সামনে যেতে পারে। সে দেশের আদালত দেখবে, যে অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ বেনজীর আহমেদকে ফেরত চাইছে, সে ধরনের অপরাধ আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
একে বলা হয় ডুয়েল ক্রিমিন্যালিটি বা উভয় দেশের আইনে অপরাধ হওয়া। দুর্নীতি, জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং বা অবৈধ সম্পদের মতো অভিযোগ সাধারণত এ পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকে।
তবে আদালত আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। যেমন মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, একই ঘটনায় আগে কোথাও বিচার হয়েছে কি না, মামলা বা দণ্ড সময়সীমার কারণে অকার্যকর হয়েছে কি না, আসামির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না অথবা তাকে ফেরত পাঠালে অমানবিক আচরণ বা অন্য কোনো আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ এবং বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি বা সমঝোতা কাঠামো নেই। ফলে পুরো প্রেক্ষাপট, মামলার নথি, আদালতের আদেশ ও বেনজীর আহমেদ কেন বাংলাদেশে ওয়ান্টেড তার শতভাগ নিখুঁত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠাতে হবে।
বেনজীর যেহেতু প্রভাবশালী, তাই তিনি দুবাইয়ে আইনজীবী নিয়োগ করে মামলাটি রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসামূলক প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন। এর জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেমন তথ্য-প্রমাণের শক্ত নথি লাগবে, তেমনি দরকার হবে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা।
বেনজীরকে ফেরানোর সম্ভাবনা কতটুকু
আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, বেনজীরকে ফেরানোর সম্ভাবনা আগের অনেক রেড নোটিশভুক্ত পলাতক আসামির তুলনায় বেশি। এর কয়েকটি কারণ আছে।
বেনজীর আহমেদ এখন আমিরাত কর্তৃপক্ষের হেফাজতে। এর আগে, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেড নোটিশ জারি করায় পারলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি, অথবা সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে গ্রেফতার করেনি। অনেকের পরিচয়ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। বেনজীরের ক্ষেত্রে অন্তত সেই বাধা আপাতত নেই।
একইসঙ্গে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আর্থিক অপরাধ ও দুর্নীতিকেন্দ্রিক। শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ চাওয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারপোল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের প্রশ্নে বেশি সতর্ক থাকে। বেনজীরের ক্ষেত্রে অভিযোগের চরিত্র তুলনামূলকভাবে অর্ডিনারি ক্রিমিনাল অফেন্স বা সাধারণ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে দেখানোর সুযোগ বেশি।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের ছয়টি মামলার মধ্যে একটি অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ, অভিযোগপত্র ও অবৈধ সম্পদ-সংক্রান্ত নথি প্রত্যর্পণ অনুরোধকে শক্তিশালী করতে পারে।
তবে সম্ভাবনা বেশি মানেই ফেরানো নিশ্চিত নয়। বেনজীরের পক্ষ থেকে তার আইনজীবীরা আমিরাতের আদালতে আপত্তি তুলতে পারেন। তারা দাবি করতে পারেন, বাংলাদেশে বিচার নিরপেক্ষ হবে না, মামলাটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিহিংসামূলকভাবে এগিয়েছে, অথবা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ও প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে। এসব আপত্তি খণ্ডাতে বাংলাদেশকে শক্ত নথি, স্পষ্ট আইনি যুক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা দেখাতে হবে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার সংসদে জানান, এনসিবি আবুধাবি স্পষ্ট করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল ল নম্বর ৩৯ অব ২০০৬ অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) পাঠাতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন সাপেক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে এবং এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে এনসিবিতে চিঠি
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার, তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা, ধরন ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাবেক এই আইজিপিকে ফিরিয়ে আনতে ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টের কপি ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চিঠি দেবো। ইতোমধ্যে আমরা সরকারের কাছে আমাদের ওয়ারেন্টগুলোর কপি দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের সরকারের যে পুলিশের একটা সংস্থা আছে, যার মাধ্যমে রেড নোটিশ পাঠানো হয়, আমরা অলরেডি আমাদের ওয়ারেন্টের কপি তাদের দিয়ে দিয়েছি। আমরা চিঠিটা পাঠাবো আমাদের তদন্ত সংস্থা থেকে এনসিবিকে, ওখান থেকে ওটা যাবে সংশ্লিষ্ট ইন্টারপোলে।
চুক্তি না থাকার বিষয়ে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এক্সট্রাডিশন চুক্তি আরব আমিরাতের সঙ্গে নেই। ভারত ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে আছে। কিন্তু ওটা যে থাকতেই হবে, নট নেসেসারি। ওইটা থাকলে ইজি হতো। কিন্তু দুই দেশের গভর্নমেন্ট পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই তাকে নিয়ে আসতে পারে।
রেড নোটিশ মানেই কি গ্রেফতারি পরোয়ানা
অনেকেই রেড নোটিশ ও আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানাকে এক করে দেখেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ও ইন্টারপোলের ভাষায় দুটি ভিন্ন বিষয়। রেড নোটিশ হলো ইন্টারপোলের একটি আন্তর্জাতিক সতর্কতা ব্যবস্থা। কোনো দেশের আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে প্রত্যর্পণ করতে চায়, তখন ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই নোটিশ জারির আবেদন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করা এবং তাকে সাময়িকভাবে আটক করার সুযোগ তৈরি করা।
তবে, এটি কোনো বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়, এটি কেবল সদস্য দেশগুলোর প্রতি একটি অনুরোধ। কোনো দেশ চাইলে এর ভিত্তিতে কাউকে আটক করতে পারে, আবার নিজেদের আইন অনুযায়ী নাও করতে পারে।
যেভাবে কাজ করে ইন্টারপোল
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, পুলিশের তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সদস্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে এবং ইন্টারপোলের জেনারেল সেক্রেটারিয়েট বা সাধারণ সচিবালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।
সদস্য দেশগুলোতে একটি করে ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বা জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো থাকে, যা সেই দেশের জাতীয় পুলিশকে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে। সদস্য দেশগুলো প্রতি বছর তাদের নীতি, কাজের পদ্ধতি, অর্থায়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য প্রতি বছর এনসিবি প্রধানদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, সাইবার ক্রাইম কিংবা সংগঠিত অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড বা চোরাকারবার যখন কোনো দেশের জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে অনেক আসামিকে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে। বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুবাইয়ের এনসিবি বরাবর বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি চিঠি পাঠানো হবে। এরপর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে।’
ইন্টারপোলের অফিসিয়াল তথ্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি শাখার রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশের অনেক পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ আছে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসামি ও বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তরা আছেন।
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ৪৪২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি আছে। তালিকায় আছে বাংলাদেশের ৫৯ জনের নাম। তালিকার প্রথমেই আছে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত রাজু ঢালির (৪২) নাম। সিঙ্গাপুর থেকে তার নামে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ পায় ইন্টারপোল।
চার নম্বরে আছে রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানের নাম। দুবাই প্রবাসী এই সোনা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ঢাকায় এক পুলিশ পরিদর্শক হত্যা মামলার অভিযোগে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। তালিকায় আছে চট্টগ্রামে ৮ হত্যা মামলার আসামি ৪৭ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেনের নাম। আরও আছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীর, প্রকাশ, জিসান, গোলাম ফারুক অভির নাম।
এছাড়া আছে শেখ মুজিব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খন্দকার আবদুর রশীদ, শরীফুল হক ডালিম, ৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আবুল কালাম আজাদ, সৈয়দ হাসান আলীর নাম। তালিকায় ভারতের ২২৮, পাকিস্তানের ১৭১ ও যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনের নামও আছে।
/ইউএমএইচ