বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন।মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে তিনি উত্তরাঞ্চলের
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম (ভিজিট : ৭)
রাজশাহীর আম মুগ্ধ করেছে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনকে। ছবি : সময়ের আলো
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে তিনি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় এই আমের হাটে যান।
এ সময় ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বিভিন্ন আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাটে ঘুরে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েক জাতের আমের স্বাদও গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় ব্যবসায়ী ও চাষিরা তাকে রাজশাহীর আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রফতানির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানান।
বাজার ঘুরে আমের স্বাদও নিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করতে সহায়ক হবে।’
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, ‘রাজশাহীর আমের স্বাদ ও গুণগত মান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের এমন আগ্রহ কৃষিপণ্য রফতানির সম্ভাবনা বাড়াবে।’
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি, কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। সেখানে সবচেয়ে তাজা, বৈচিত্র্যময় ও সেরা পণ্য দেখার সুযোগ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের আম রফতানি প্রসঙ্গে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা শেক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া গেলেও রাজশাহীর মতো এত তাজা আম পাওয়া কঠিন।’
আম রফতানির সম্ভাবনা বাড়াতে বাংলাদেশে কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ‘সারা বছর আম সহজলভ্য রাখতে এবং হিমায়িত আম রফতানি বাড়াতে উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা দরকার। এতে বাংলাদেশের আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রফতানির সুযোগ আরও বাড়বে।’