বিদ্যুৎ মন্ত্রীর এলাকায় আলো, অন্যত্র অন্ধকার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

চলমান বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর

2026-08-18T23:16:15+00:00
2026-08-18T23:26:34+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
বিদ্যুৎ মন্ত্রীর এলাকায় আলো, অন্যত্র অন্ধকার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম  আপডেট: ১৮.০৮.২০২৬ ১১:২৬ পিএম
কারিগরি ত্রুটি ছাড়া এ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে না। ছবি : সংগৃহীত
চলমান বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নিজ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) এলাকায় তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ঝড়-বৃষ্টি বা কারিগরি ত্রুটি ছাড়া এ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে না।

তবে মন্ত্রীর নির্বাচনী আসনের বাইরে উল্লাপাড়া, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং তাঁতশিল্পেও প্রভাব পড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরগুলোতে বিদ্যুতের লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে এর মাত্রা বেশি। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঝড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনপুর পৌরসভার বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন জানান, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ খুব কম যায়। 

অন্যদিকে কামারখন্দ উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদরে লোডশেডিং নেই। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ গেলেও ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে আবার চলে আসে।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা রিপন বলেন, আশপাশের উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা শুনলেও সদর এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলকভাবে খুবই কম।


উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকার বাসিন্দা হাসান বলেন, ‘মন্ত্রী এলাকা হওয়ায় এখানে লোডশেডিং কম হয়। বিদ্যুৎ গেলেও ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসে। তবে ঝড়-বৃষ্টি হলে এক ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টাও লাগে।’

অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপেন্দ্র নাথ মাহাতো বলেন, কয়েক দিন আগে দিনে-রাতে সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ গেছে। কখনো কখনো আট-নয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কমে এসেছে।

বেলকুচি উপজেলার তাঁতশ্রমিক সবুজ মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ যেত। প্রতিবার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ ব্যাহত হতো। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

বেলকুচির তামাই এলাকার একটি তাঁত কারখানার মাস্টার আলী আলহাজ বলেন, ‘মাঝে মাঝে লোডশেডিং হয়। তবে এমপির এলাকা তো, এজন্য একটু কম। যখন বিদ্যুৎ যায়, তখন আমরা জেনারেটর দিয়ে ব্যাকআপ দিই। জেনারেটরের খরচ হিসাব করলে মাসে ৩-৪ হাজার টাকার ডিজেল লাগে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়ে জানতে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নুর বলেন, ‘আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পেয়েছি। সদরে কোনো লোডশেডিং নেই। প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।’

সমেয়র আলো/কেআই/কেএইচও


  বিষয়:   বিদ্যুৎ মন্ত্রী  স্বস্তি  লোডশেডিং 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: