প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের একদিন পরই ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার টাকা হাতে পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের উপকারভোগী নারীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ড ও অর্থ সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। তাদের ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সরকারের এ সহযোগিতা সংসারের খরচ চালাতে স্বস্তি দেবে।
জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুরোনো স্টেডিয়ামে ১০ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত অন্য উপকারভোগীদের হাতে কার্ড ও ভাতার টাকা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এর পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাদুল্লারচর বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের লতিবাবাদ শাখা থেকে উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ড, ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও এটিএম কার্ড দেওয়া শুরু হয়। একই দিন অনেক উপকারভোগী ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করেন।
এ কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকটির নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি অন্যান্য শাখা থেকে আরও আটজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড পাওয়ার একদিন পরই ব্যাংক থেকে এটিএম কার্ড ও ভাতার টাকা পেয়ে আনন্দিত রশিদাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজমা আক্তার ও হাজেরা খাতুন।
লতিবাবাদ গ্রামের গৃহবধূ নাজমা আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে আমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন। তাকে কাছ থেকে দেখা এবং তার হাত থেকে কার্ড নেওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। সারা জীবন তার জন্য দোয়া করব। প্রতি মাসে টাকা পাব। এখন আর খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে না।’
একই গ্রামের হাজেরা খাতুন বলেন, ‘গতকাল মাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কার্ড নিয়েছি। আর আজই কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা পেলাম।’
তিনি বলেন, ‘ঘরের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে আছে। এই টাকা দিয়ে ঘর মেরামত করব। কিছু টাকা দিয়ে হাঁস-মুরগি কিনব। এখন আর সন্তানের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।’
নাজমা ও হাজেরার মতো দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা হাতে পেয়ে খুশি অন্য উপকারভোগীরাও। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের মধ্যে প্রতি মাসে ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ জমা হওয়া পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হবে। এতে সংসারের খরচ ও সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর সকাল থেকে দিনভর ফ্যামিলি কার্ড ও এটিএম কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে।’
সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ১০৮ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪৫৭ জনকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করেছে সমাজসেবা অধিদফতর।
সময়ের আলো/কেএইচও