বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্য কোনো মামলায় আর গ্রেফতার না থাকায় অধ্যাপক বারকাতের কারামুক্তিতে এখন কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ এই মামলার পূর্বনির্ধারিত জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে আবুল বারকাতের পক্ষে আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম যেকোনো শর্তে তার জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি পর্যালোচনা করে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে রবিবার (১৪ জুন) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জালিয়াতির আশ্রয়ে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর গত ৭ জুন দুদকের ওই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন লাভ করেন আবুল বারকাত।
তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার তাকে আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
পুলিশের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন আনুমানিক বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সমমনা নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় উসকানিমূলক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন ড. আবুল বারকাত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শেখ হাসিনা এবং ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডি