মেহেরপুরে নয় বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেনের আদেশের নথি ডেথ রেফারেন্স লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পুলিশ পাহারায় উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশের একটি দল ও নারী শিশু আদালতের অফিস সহকারী আহাদ হোসেন ফাঁসির রায়ের নথি লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।
মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, সিআরপিসির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে ফাঁসির রায়ের পর তা অনুমোদনের জন্য তিন কর্ম দিবসের মধ্য নথি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পুলিশি পাহারায় উচ্চ আদালতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। ঈদের ছুটির পর আদালত খুললে আজ সেটি পাঠানো হলো।
এই নথি ঢাকা হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ ও আপীল বিভাগ রায়ের নথি পর্যালোচনা আগে সেখানে পেপার বুক তৈরি করে শুনানির জন্য পাঠানো হবে। উচ্চ আদালত শুনানি শেষে ফাঁসি রায় বহাল রাখা বা না রাখা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করবেন, বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মে রবিবার দুপুর দেড়টার সময় মেহেরপুর শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দেশের ইতিহাসে ২৯ কার্যদিবসের মধ্য স্বশরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে ১৩ স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে রায় ঘোষণা করে আদালত।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ই জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী পাট ক্ষেতে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন।
সময়ের আলো/আতা