দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের অধিকারী ভারতের ভূমি অধিদফতরের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন শাখা (অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো-এসিবি)। ওই কর্মকর্তার শতকোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে এসিবি। ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসিবি। তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের বাসিন্দা ওই কর্মকর্তার নাম শুঙ্কারি নরহরি রাও।
তিনি ভূমি অধিদফতরের যুগ্ম কর্মকর্তা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার ওই কর্মকর্তার বেশ কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এসিবি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, শতকোটিই নয়, তারও বেশি সম্পত্তি রয়েছে রাওয়ের। সেসব সম্পত্তিরও খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে এসিবি কর্মকর্তারা।
রাওয়ের ৯টি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এসিবি। এ ছাড়া তার কয়েকজন আত্মীয়ের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভূমি দফতরের ওই কর্মকর্তার নামে এবং বেনামে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, কয়েক একর জমি, বিলাসবহুল বাংলোর খোঁজ মিলেছে। এখন পর্যন্ত স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে ১০০ কোটির খোঁজ পাওয়া গেছে।
এসিবি সূত্রে আরও জানা যায়, রঙ্গারেড্ডি জেলায় পাঁচটি জমি রয়েছে রাওয়ের। মহেশ্বরমে ১.২৪ একর কৃষিজমির হদিস মিলেছে। পুপ্পালাগুড়ায় ২৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নরসিংহীতে ১৮৬০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট এবং রাজেন্দ্রনগরে আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে রাওয়ের। গাছিবোওলিতে চার তলা বিলাসবহুল একটি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া ছত্রীনাকায় আরও একটি তিন তলা বাড়ির খোঁজ মিলেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংকের লকারে পাওয়া গেছে আড়াই কোটি টাকা। স্থায়ী আমানত রয়েছে ৫ কোটি টাকার। এ ছাড়া স্বর্ণের গহনা রয়েছে প্রায় দেড় কেজি। রুপার গহনা রয়েছে ৮ কেজি। রাওয়ের স্ত্রীর নামে ব্যাংকে দুটি লকার রয়েছে। সেই লকার এখনও খোলা হয়নি বলে জানিয়েছে এসিবি সূত্র।
এসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক কোটি টাকার একটি গাড়িও উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এসিবি।