ওয়ানডে সিরিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টির নতুন লড়াই শুরু করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের গ্যালারিতে ছিল প্রত্যাশার ঢেউ, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরুতেই ধাক্কা খেল স্বাগতিকরা। অ্যাডাম জাম্পার ঘূর্ণি আর অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৩১ রানেই থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।
চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শহিদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নামা স্বাগতিকরা শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও দ্রুতই হারিয়ে ফেলে ছন্দ।
তৃতীয় ওভারেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলের ২৬ রানে স্পেনসার জনসনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ৯ বলে ১০ রান করেন এই ওপেনার।
অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন সাইফ হাসান। তিনটি চারের সাহায্যে ১৪ বলে ২০ রান করে ভালো কিছুর আভাস দিচ্ছিলেন তিনি। তবে ম্যাট রেনশর বলে থামেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাওহীদ হৃদয় ইনিংস শুরু করেন রেনশকে ছক্কা মেরে। তবে জাম্পার গুগলি বুঝতে না পেরে ৫ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি।
লিটনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার শুরু থেকেই ছিলেন অস্বস্তিতে। তবু ধীরে ধীরে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জাম্পাকে জায়গা বানিয়ে টেনে মারতে গিয়ে ডিপ কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৮ বলে করেন ১৭ রান। ব্যর্থ হন পারভেজ হোসেন ইমনও। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসের বলে ১২ বলে ১০ রান করে ক্যাচ দেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে লোয়ার মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা শামীম পাটোয়ারীও এদিন হতাশ করেন। অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে ছয়ে নামিয়েও কাক্সিক্ষত ফল পায়নি বাংলাদেশ। তিনি করেন ১০ রান।
এক পর্যায়ে মাত্র ৮৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। রিশাদ হোসেন ৮ বলে ৩ রান করে ফেরেন। শরিফুল ইসলাম একটি ছক্কা হাঁকালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
ধসে পড়া ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শেখ মেহেদী। শেষ উইকেটে মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১২ বলে ২৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন মেহেদী। ২২ বলে ২৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে, যা বাংলাদেশকে তিন অঙ্ক পেরিয়ে ১৩১ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে মাত্র ১৮ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট। তার ঘূর্ণিতেই মূলত দিশাহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
/আআ