দেশে আত্মহত্যা বৃদ্ধির প্রবণতা বর্তমানে সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা আমাদের সমাজের ভেতরে জমে ওঠা গভীর সংকটের প্রতিফলন। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা খুললেই কোথাও না কোথাও আত্মহত্যার মর্মান্তিক খবর চোখে পড়ে। এসব সংবাদ কেবল একটি জীবনের অবসানের খবর নয়; বরং আমাদের সামাজিক বাস্তবতার এক বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি।
‘আত্মহত্যা’ শব্দটির অর্থ নিজেকে হত্যা করা। আত্মহত্যা বা আত্মহনন বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়া। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা আত্মহত্যাকে কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন না; বরং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনাও মনে করেন।
এই সমস্যার ব্যাপকতা বুঝতে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুসারে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে মোট ৭৩ হাজার ৫৯৭ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর ফলে বছরে গড়ে ১৪ হাজার ৭১৯ জন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন আত্মহত্যা করছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১২ হাজার ৩৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় একই (সামান্য বেশি, ৪১টি)।
২২ ডিসেম্বর ২০২৫ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) মো. আশরাফুল ইসলাম এই তথ্য উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়। বর্তমানে আত্মহত্যার প্রবণতা মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে- শিক্ষার্থী সমাজ, গৃহবধূ ও তরুণী এবং পেশাজীবী মানুষ। জরিপ অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি নারীদের এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।
আত্মহত্যার এই প্রবণতাকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানী মাইল ডুর্খেইমের মতামত বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি আত্মহত্যাকে কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, আত্মহত্যা ব্যক্তির মানসিক দুর্বলতার একক ফল নয়; এটি সমাজের সম্পর্ক, মূল্যবোধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তার বিখ্যাত গ্রন্থ খব ঝঁরপরফব (১৮৯৭)-এ তিনি দেখান, কোনো সমাজে সামাজিক সংহতি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যতটা শক্তিশালী বা দুর্বল হয়, আত্মহত্যার হারও ততটাই প্রভাবিত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে যেখানে মানুষের মধ্যে সংযোগ দুর্বল এবং সামাজিক কাঠামো ভঙ্গুর, সেখানে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে। ডুর্খেইমের ভাষায় আত্মহত্যা হলো ‘সমাজের ভাঙন ও সামাজিক সংহতির দুর্বলতার প্রতিফলন’। সামাজিক সংহতি দুর্বল হয়ে পড়লে মানুষ ক্রমে একাকিত্বে নিমজ্জিত হয়, আর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল বা অস্থির হয়ে গেলে সৃষ্টি হয় দিশাহীনতা, যাকে তিনি ‘অ্যানোমি’ নামে অভিহিত করেছেন।
এই অ্যানোমিক অবস্থায় মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক বাড়তে থাকে, যা হতাশা ও মানসিক অস্থিরতাকে তীব্র করে তোলে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই বিশ্লেষণ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। পরিবার ও সামাজিক বন্ধনের
শিথিলতা, তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা একাকিত্ব, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান এসব মিলিয়ে এক ধরনের অ্যানোমিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা আত্মহত্যার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আত্মহত্যার এই বাড়ন্ত প্রবণতার পেছনে কাজ করছে একাধিক জটিল কারণ। দেশে এ সমস্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন স্তরের প্রভাব একসঙ্গে সক্রিয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে আর্থিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্যজনিত চাপ এবং কর্মসংস্থানের অভাব অনেককে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানসিক কারণগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ, প্রেমঘটিত হতাশা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা ব্ল্যাকমেইল, সামাজিক অপমান বা নির্যাতনের ফলে আত্মমর্যাদাহানির অনুভূতি এবং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধানজনিত মানসিক অস্থিরতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
একই সঙ্গে পরিবারের অতিরিক্ত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ, বিশেষত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করে তুলছে। সামাজিক বাস্তবতায়ও রয়েছে নানা জটিলতা। সামাজিক তুলনা, লোকদেখানো জীবনের চাপ, বাল্যবিয়ে, জীবনসঙ্গী নির্বাচনে স্বাধীনতার অভাব, পাশাপাশি অতিরঞ্জিত বা উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের প্রভাব এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি এসব উপাদান ব্যক্তির মানসিক স্থিতিকে নানাভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে পারিবারিক পর্যায়ে মাদকাসক্তির প্রভাব, দাম্পত্য জীবনের কলহ, যৌতুক সমস্যা, মানসিক অশান্তি এবং একান্নবর্তী পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সব মিলিয়ে এসব বহুমাত্রিক কারণ সম্মিলিতভাবে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আজ আমাদের সমাজের জন্য এক গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আত্মহত্যার আগে অনেক ক্ষেত্রে কিছু সতর্কসংকেত বা পূর্বলক্ষণ দেখা যায়, যা সময়মতো চিহ্নিত করা গেলে প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে। এসব লক্ষণের মধ্যে হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যাওয়া বা সামাজিক যোগাযোগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত হতাশা বা নিরাশার কথা বলা, জীবনের প্রতি অনীহা প্রকাশ, ‘আমি বাঁচতে চাই না’- এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং প্রিয় জিনিসপত্র অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া হঠাৎ রাগ, বিরক্তি বা অস্থিরতা বৃদ্ধি, নিজেকে মূল্যহীন মনে করা কিংবা অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাও ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত দ্রুত সহানুভূতিশীলভাবে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়া।
শুধু সামাজিক বা মানসিক দিক থেকেই নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আত্মহত্যা একটি গুরুতরভাবে নিরুৎসাহিত কাজ। ইসলামসহ অধিকাংশ ধর্মেই মানবজীবনকে স্রষ্টার অমূল্য দান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করা অন্যায়। নৈতিকভাবেও আত্মহত্যা কেবল ব্যক্তির জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস করতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেতিবাচক চিন্তা ও হতাশাকে নিয়ন্ত্রণ করে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা, সময়ের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার সীমিত করা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
পাশাপাশি সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকা, বইপড়া, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা, বৃক্ষরোপণের মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা, মানসিক সংকটে পড়লে কাউন্সেলিং বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ানো এবং মাদকাসক্তি ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি, অপমান বা কলঙ্কের ভয় দূর করা এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু করা, ২৪ ঘণ্টা মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইন সম্প্রসারণ, কর্মক্ষেত্রে কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন এবং গোপনীয় ও সহজলভ্য কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজশর্তে বা বিনা সুদে সহায়তার ব্যবস্থা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জীবনের মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করাও সময়ের দাবি।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকার ও সমাজের মানুষের ভূমিকা কেবল সেবামূলক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত। সরকারের ক্ষেত্রে আত্মহত্যা প্রতিরোধে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসংগ্রহ ও গবেষণা জোরদার করা, বেকারত্ব ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে কার্যকর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গণমাধ্যমে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সাইবার হয়রানি ও অনলাইন সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।
অন্যদিকে সমাজের মানুষের দায়িত্ব আরও সূক্ষ্ম ও মানবিক। আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার, লজ্জা ও কলঙ্কের সংস্কৃতি ভেঙে সহমর্মিতা, গ্রহণযোগ্যতা ও পারস্পরিক সহায়তার মনোভাব গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সব ক্ষেত্রেই মানুষের মধ্যে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ দেখিয়ে দেওয়াই হতে পারে একটি জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজ যদি সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে এই নীরব সংকট মোকাবিলা করা যেমন সম্ভব, তেমনি একটি আরও সহমর্মিতাপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে। আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি চূড়ান্ত ও অপূরণীয় ক্ষতি, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে গভীর শূন্যতার মধ্যে নিমজ্জিত করে।
জীবন কখনোই সহজ বা নির্বিঘ্ন যাত্রা নয়; বরং তা নানা প্রতিকূলতা, সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন মানে সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং সেই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তা মোকাবিলার মানসিক শক্তি ও সক্ষমতা অর্জন করা। প্রতিটি সংকটই মানুষকে আরও সহনশীল, ধৈর্যশীল ও আত্মোন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
অতএব সচেতনতা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতি অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। মানবিক মূল্যবোধ, ইতিবাচক চিন্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি সুস্থ, সহনশীল ও আশাবাদী সমাজ যেখানে প্রতিটি জীবনই মূল্যবান এবং প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
মতামত লেখকের নিজস্ব