আটলাস সিংহ নাকি টার্টান আর্মি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

মরক্কো যেন এক নতুন ইতিহাসের গল্প লিখতে নেমেছে। ব্রাজিলের মতো মহাশক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তারা শুধু প্রতিরোধই গড়েনি বরং নিজেদের অস্তিত্বের

2026-06-19T04:56:07+00:00
2026-06-19T04:56:07+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
আটলাস সিংহ নাকি টার্টান আর্মি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৪:৫৬ এএম 
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করলেও গোল পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অনুশীলনে হাস্যোজ্জ্বল এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। হাইতির বিপক্ষে আগামীকাল ভোরে ম্যাচ শেষেও এই হাসিটা ধরে রাখতে চাইবে পুরো দল। ছবি : সংগৃহীত
মরক্কো যেন এক নতুন ইতিহাসের গল্প লিখতে নেমেছে। ব্রাজিলের মতো মহাশক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তারা শুধু প্রতিরোধই গড়েনি বরং নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। এক গোলের আলোয় শুরু হওয়া সেই রাত শেষ হয়েছে আত্মবিশ্বাসের প্রতিধ্বনিতে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে আর ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনে আছে মরক্কো। এই ম্যাচের ফল গ্রুপের অবস্থান অনেকটাই পরিষ্কার করে দেবে- স্কটল্যান্ড জিতলে তারা নকআউটের খুব কাছে চলে যাবে আর মরক্কো জিতলে শেষ ষোলোতে যাওয়ার লড়াই আরও শক্তভাবে ধরে রাখতে পারবে।

স্কটল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের একমাত্র গোলেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়। তবে পারফরম্যান্স খুব বেশি প্রভাবশালী ছিল না। আক্রমণে ধার কম ছিল এবং সুযোগ তৈরিতেও সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। স্টিভ ক্লার্কের দল মূলত সংগঠিত রক্ষণ এবং শৃঙ্খলিত দলগত খেলায় ভর করে এগোতে চায়। স্কট ম্যাকটমিনে ও জন ম্যাকগিন মিডফিল্ডে দলের প্রধান শক্তি হলেও আক্রমণভাগে চে অ্যাডামস ও শ্যাঙ্কল্যান্ডের কাছ থেকে আরও কার্যকারিতা দরকার।

অন্যদিকে মরক্কো তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে বড় বার্তা দিয়েছে। ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও তারা চাপ সামলে ম্যাচে টিকে ছিল এবং আক্রমণ ও রক্ষণ দুদিকেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তরুণ মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দি দারুণ প্রভাব ফেলেছেন আর ইসমাইল সাইবারি গোল করে আক্রমণে ধার দেখিয়েছেন। নতুন কোচ মোহাম্মেদ ওউহাবির অধীনে দলটি আরও গতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ইউরোপীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্কোয়াড। আশরাফ হাকিমির গতি ও আক্রমণাত্মক দৌড়, সফিয়ান আমরাবাতের মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর স্থিরতা দলটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পাশাপাশি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ও টেকনিক্যাল দক্ষতায় তারা স্কটল্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে। হেড-টু-হেডে মরক্কো এগিয়ে আছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে তারা স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল। ইতিহাসও তাই মরক্কোর পক্ষেই কথা বলছে।


ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও ব্যবধান স্পষ্ট- মরক্কো ৭-এ অবস্থান করছে, যা তাদের ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিফলন। স্কটল্যান্ড তুলনামূলকভাবে নিচে (৪২ নম্বর) থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলা ও লড়াইয়ের মানসিকতায় তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

সব মিলিয়ে ম্যাচটি কৌশলগত লড়াইয়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ড রক্ষণাত্মক থেকে সুযোগ খুঁজবে আর মরক্কো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণের ধার ধরে রাখতে চাইবে। কাগজে-কলমে এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় মরক্কো সামান্য ফেভারিট হলেও, স্কটল্যান্ডের কঠোর প্রতিরোধ ম্যাচটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া : ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দলই প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দারুণভাবে এবং এখন গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয়, যেখানে আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত কার্যকর। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে তুরস্কের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ২-০ গোলে হারিয়ে বড় চমক সৃষ্টি করে, বিশেষ করে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায়।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল এবং মাত্র ৭ মিনিটেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায়। এরপর ফোলারিন বালোগান ৩১ ও ৫০ মিনিটে দুই গোল করে নিজেকে বড় মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেন। শেষ দিকে জিওভান্নি রেইনা ৯৮ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা দেখায়। পুরো ম্যাচে তারা মাত্র ৯টি শট নিয়েও ২-০ ব্যবধানে জয় পায়। নেস্টোরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকালফ গোল করেন আর গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচের নায়ক হন।

ফিফা র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে এগিয়ে, সাধারণত তারা শীর্ষ বিশের মধ্যে থাকে আর অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করে মাঝামাঝি বিশের দিকে। তবে বর্তমান ফর্মে দুই দলই সমান আত্মবিশ্বাসী।

শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণভিত্তিক দল, যারা দ্রুত পাসিং, উচ্চ প্রেসিং এবং উইং দিয়ে আক্রমণ করতে পছন্দ করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক ও সংগঠিত দল, যারা কাউন্টার অ্যাটাক এবং সেট পিসে বেশি নির্ভর করে। সব মিলিয়ে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ফেভারিট হলেও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী রক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখবে। তবে হোম সমর্থন, আক্রমণভাগের ধার এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধরা হচ্ছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   আটলাস  সিংহ  আর্মি  ব্রাজিল 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: