গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ৬ তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে, যেখানে উপজেলার ২৪টি হরিজন পরিবার উন্নত আবাসন সুবিধা পাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। স্বল্প জায়গায় অধিক মানুষের বসবাসের কারণে সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া তাদের সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর জায়গার অভাবে আশপাশের বাসিন্দাদেরও কিছুটা অসুবিধা হতো। মূলত এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে সমাজের মূলধারায় যুক্ত করতেই উপজেলা প্রশাসন এই মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের গাজীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। ‘পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক এই ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক।
টঙ্গি-সিলেট (ভায়া নরসিংদী) সড়ক সংলগ্ন পৌর এলাকার বালীগাঁও মৌজায় ১৮৭ নম্বর আরএস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি (অধিগ্রহণকৃত)। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৬ তলা বিশিষ্ট ফ্ল্যাট বাড়ি। প্রতিটি পরিবারের জন্য থাকবে নিজস্ব রান্নাঘর, টয়লেট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির সুব্যবস্থা।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক জানান, ইতোমধ্যেই প্রকল্পের টপো সার্ভে এবং মাটির ভৌত ও রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ভবনের ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এখানে ২৪টি পরিবার আধুনিক ফ্ল্যাটের সব ধরনের সুবিধা নিয়ে বসবাস করতে পারবে।
নতুন আবাসন প্রকল্পের খবর আসায় আনন্দের বন্যা বইছে কালীগঞ্জের হরিজন পল্লীতে। সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, আগে তাদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও গাদাগাদি করে থাকতে হতো। এখন পাকা ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকার সুযোগ মিলবে—এটা ভেবেই তারা আনন্দিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু তাদের বাসস্থানই নিশ্চিত হচ্ছে না, বরং সমাজে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের জীবনযাত্রায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম বলেন, সুবিধাবঞ্চিত হরিজন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা যাতে নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই আবাসন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু বাসস্থানই নয়, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দিকেও আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
সময়ের আলো/জোই