সাতক্ষীরার কলারোয়া, আশাশুনি ও সদর উপজেলার পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) জেলাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচ থেকে মেহেদী হাসান (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মেহেদী কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের স্ত্রীর বরাত দিয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত মেহেদী হাসান কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। এরপর বাড়ি ফেরার কথা বলে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন। শুক্রবার সকালে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
মেহেদীর মা মনোয়ারা খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন এবং রাতে আর ফেরেননি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর পান তিনি। নিহতের মায়ের অভিযোগ, বসতবাড়ির পাশে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারাই মেহেদীকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে অধিকতর তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা সরকারি খাল থেকে মো. আব্দুর রহিম মালি (৬০) নামে এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি শ্বেতপুর গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিন মালির ছেলে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে নামাজ পড়তে বের হয়ে আব্দুর রহিম আর ঘরে ফেরেননি। পরে খালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। এ সময় তার চোখ ও মুখে রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়।
আশাশুনি থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনার রশিদ মৃধা বলেন, আব্দুর রহিম মালি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে গিয়ে তিনি আর উঠতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানিতে পড়ে থাকার কারণে কাঁকড়া বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর কামড়ে তার চোখ ও মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকা থেকে অমিত হাসান নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক যুবকের ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সময়ের আলো/জোই