পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার জেরে এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে ওই ভারতীয়কে আটক করে বিজিবি ও পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
আটক ভারতীয় নাগরিকের নাম দীপঙ্কর গোপ (৩০)। তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার তমিজ উদ্দীন (৭৮) নামে এক বৃদ্ধ হারিয়ে যাওয়া গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে চলে যান। তমিজ উদ্দীন কানে কম শোনেন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। চার দিন পার হলেও তাকে ফেরত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় সীমান্তবাসী।
শনিবার সকালে দীপঙ্কর গোপ নামে ওই ভারতীয় নাগরিক কাঁটাতারের বেড়ার ওপাশের একটি চা-বাগানে কাজ করতে এসে একপর্যায়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করেন। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়রা তাকে ধরে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীপঙ্করকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
নিখোঁজ তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, আমার বাবা কানে শোনেন না, চলতে পারেন না। শুধু গরু খুঁজতে গিয়ে তিনি সীমান্তের কাছে গিয়েছিলেন। বিএসএফ তাকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার, আমার বাবাকে ফেরত না দিলে এই ভারতীয় নাগরিককেও ছাড়া হবে না। আমরা আমাদের বাবাকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই।
সাতমেরা ইউনিয়ন পরিষদের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তমিজ উদ্দীন অত্যন্ত সহজ-সরল ও বয়স্ক মানুষ। তাকে বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তমিজ উদ্দীনকে ফেরত আনা এবং আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা