চুয়েটে অচলাবস্থা কাটেনি, দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা কাটেনি। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক

2026-09-23T23:24:55+00:00
2026-09-23T23:24:55+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চুয়েটে অচলাবস্থা কাটেনি, দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা কাটেনি। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চলছে আন্দোলন। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নানা দাবিও তুলে ধরা হয়েছে। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবারের মতো বুধবার সকাল থেকে চুয়েটের মূল ফটক বন্ধ ছিল। অব্যাহত ছিল সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় দাবির প্রতি সমর্থনে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি। এসময় সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। চুয়েটের উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে আমরা পুনর্বহাল চাই। অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। দাবির সমর্থনে আমরা শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। 

সোমবার থেকে উপাচার্য ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার চুয়েটে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। বুধবারও ক্লাস-পরীক্ষা একাডেমিক কার্যক্রম চলেনি। প্রশাসিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিল।

গত সোমবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ছাত্রীরাও মিছিলে যোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর থেকে চলছে আন্দোলন।

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন শিক্ষার্থীরা 

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট শিক্ষার্থী মাহতাব হক। লিখিত বক্তব্যের শিরোনাম ছিল ‘কেন আমরা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল চাই’। 

এতে বলা হয়, আমরা প্রত্যাহার করা উপাচার্যকে পুনর্বহাল চাই। একটা প্রশ্ন প্রায়ই করা হচ্ছে মাত্র ৫৬ দিনে একজন উপাচার্য এমন কী করেছেন যে তাকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েট শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছেন? আমাদের উত্তর হলো বিষয়টি শুধু এই ৫৬ দিনের নয়। এই সময়টুকুতে আমরা তার নেতৃত্বের যে ধরন প্রত্যক্ষ করেছি তা তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক কাজেরই ধারাবাহিকতা। কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়। এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা, দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং শুরু হওয়া কাজগুলোর ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানোর চারটি কারণ তুলে ধরা হয়। ব্যাখ্যা করে বলা হয়, প্রথম কারণ পদ নয় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর মানসিকতা। দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য একজন প্রশাসক হিসেবে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা শুনেছেন সরাসরি কথা বলেছেন। কোনো সমস্যা তার কাছে তুলে ধরা হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখে সমাধানের পথ খোঁজার আন্তরিকতা ও স্পৃহা দেখিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন, সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এই সরাসরি সম্পৃক্ততাই অল্প সময়ের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক তৈরি করেছে। এ ছাড়া অধ্যাপক সায়েম ২০০৫ সালে চুয়েটে শিক্ষকতা শুরুর সময় থেকে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন।

পুনর্বহালের অন্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলা হয়, অধ্যাপক সায়েমের প্রচেষ্টায় নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বহু চুয়েট শিক্ষার্থী পূর্ণ বৃত্তিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ফুল স্কলারশিপসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠাতে তিনি সহায়তা করেছেন। তার উদ্যোগে ইতালির আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ড্যানিয়েলি চুয়েট থেকে পাঁচজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে প্রকৌশলী হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছে।

শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েমের পরিকল্পনাগুলো ছিল সরাসরি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চুয়েটে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিদেশি শিক্ষার্থী আনা, আধুনিক গবেষণা হাব, স্মার্ট ক্লাসরুম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা-ইন্টার্নশিপ-কর্মসংস্থান সংযোগ এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্ককে কার্যকর করার পরিকল্পনা সামনে আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাকিব হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনের সময়ে চুয়েটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্লাব ফেস্ট আয়োজন হয়। পাশাপাশি চুয়েটে ‘ডিফেন্স অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিসার্চ উইং’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

মাহতাব হক আরও বলেন ৫৬ দিন কোনো উপাচার্যের পূর্ণ মেয়াদ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু একজন প্রশাসক শিক্ষার্থীদের কথা শুনবেন কি না সংকটে পাশে দাঁড়াবেন কি না, সমস্যা জানালে সমাধানের চেষ্টা করবেন কি না এবং নিজের নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতাকে শিক্ষার্থীদের সুযোগ তৈরিতে ব্যবহার করবেন কি না— এই মানসিকতা বুঝতে ৫৬ দিন একেবারে অপ্রতুলও নয়। আমরা এই অল্প সময়েই সেই মানসিকতার বাস্তব প্রতিফলন দেখেছি। 

শিক্ষক সমিতির দাবি

চুয়েটের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। তাকে উপাচার্য পদে অব্যাহতি সংক্রান্ত জারিকরা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগের পর থেকে তিনি গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর কোনো কারণ উল্লেখ না করে তাকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মাত্র ৫৬ দিনের কর্মকালেই তাকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর জরুরি সাধারণ সভা করে শিক্ষক সমিতি। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেআই
  বিষয়:   চুয়েট  অচলাবস্থা  দাবি  আন্দোলন  ‍সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: