মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধব গাঙ্গের ছড়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল সরেজমিনে মাধব গাঙ্গের ছড়া পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর মাধব গাঙ্গের ছড়ায় ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হয়। এতে পুঁটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়।
বিষয়টি নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সময়ের আলোয় ‘ভেসে উঠেছে মরা মাছ, বিষ দিয়ে শিকারের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা বিষয়টির প্রতিকার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুর ৩টার দিকে মাধব গাঙ্গের ছড়ায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল। পরে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ছড়াটিতে বছরে দুই থেকে তিনবার বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগের কথা জানতে পেরেছেন।
মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘মাধব ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারের একটি অভিযোগ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টি দেখতে ঘটনাস্থলে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বছরে প্রায় দুই থেকে তিনবার কিছু অসাধু ব্যক্তি বিষ দিয়ে মাছ শিকার করেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীকেও সহযোগিতা করতে হবে।’
বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারকে অপরাধ উল্লেখ করে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ মারা একধরনের ফৌজদারি অপরাধ। কেউ এ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলার বিভিন্ন ছড়ায় যাতে কেউ বিষ দিয়ে মাছ শিকার না করে, সে জন্য সচেতনতা তৈরিতে মাইকিং করা হবে। এরপরও কেউ এ ধরনের অপকর্ম করলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বড়লেখা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। এ এলাকার মাছের সুনাম সারা বাংলাদেশে রয়েছে। আমরা চাই, মাছের সুনাম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাক। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, মাধব গাঙ্গের ছড়ার পানিতে বিষ প্রয়োগের পর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে ছড়ার পানিতে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায় বলেও জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মেশে। ফলে ছড়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হলে এর প্রভাব হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়তে পারে।
বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও জলাশয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সময়ের আলো/এসএকে