৩ হাজার টাকার দেনা-পাওনার দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শরিফুল ইসলাম হিরা (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার রেলওয়ে স্টেশনের তোরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম হিরা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত জাবেদ ভূইয়ার ছেলে। তিনি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাজী পাড়া গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন এবং গোয়ালন্দ পৌর এলাকার মধ্যে চলাচলরত ইজিবাইকের টোল আদায়ের কাজ করতেন।
এ হত্যাকাণ্ডের দুই ঘণ্টার মধ্যেই রাজবাড়ী গোয়েন্দা শাখা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত কামরুল ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে।
জানা যায়, শরিফুলের কাছে কামরুল ৬ হাজার টাকা পেতেন। সপ্তাহ খানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। দুদিন আগে বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলার সূত্রে ধরে শনিবার সকালে শরিফুল গোয়ালন্দ বাজার থেকে বাজার শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ী ফেরার সময় তোরাইড় মোড় এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে তাকে বুকের পাঁজরে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে কামরুল পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রুমেল হাসান বলেন, আমি জরুরি বিভাগে ছিলাম, হিরা নামে যে লোকটিকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসে তখন আমরা তাকে মৃত পাই। অর্থাৎ হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণেই তার দ্রুত মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় প্রধান হত্যাকারী কামরুল ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনীর ভাষ্যমতে জানা যায়, দুই-তিন দিন ঘুরে পাওনা টাকা না পাওয়ায় তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা