পলাতক সাবেক শাসকের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধী দলের ‘ডিসেম্বরে সরকার পড়ে যাবে’—এমন বক্তব্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার’ বারবার বলছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। একই সময়ে বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরে সরকার পড়ে যাবে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে মানুষ কোনো যৌক্তিকতা বা যোগসূত্র খুঁজে পায় কি না, সেটিই তাঁর প্রশ্ন।
দেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব শুরু করেছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের মধ্যেই অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একদিকে জ্বালানি সংকটের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েকশ গাড়ি নিয়ে রোডমার্চ করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা মানুষই বুঝতে পারছে।
মীর হেলাল বলেন, দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। সবার রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে জনজীবন বিপন্ন হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার আইনের মধ্যে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিদেশে থাকা কিছু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের দিয়ে ভোররাতে মিছিল করাচ্ছেন। এসব ঘটনায় দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা গ্রেপ্তার হলেও যারা বিদেশে থেকে তাদের ব্যবহার করছেন, তারা নিরাপদে থাকছেন।
রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিরোধিতার খাতিরে যারা বিরোধিতা করছেন, তারা সংসদের ভেতরে এক ধরনের কথা বলছেন, আবার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কথা বলছেন। এ ধরনের আচরণ রাজনীতির জন্য শুভ নয়।
দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মীর হেলাল। তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই সময়ে সরকার সফল না ব্যর্থ হয়েছে, পাঁচ বছর পর জনগণই তার বিচার করবে।
তিনি আরও বলেন, তারা ‘রাতের ভোটে’ নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন; জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। পাঁচ বছর পর জনগণ আস্থা না রাখলে তারা তা মেনে নেবেন। আর আস্থা রাখলে পূর্ণ মেয়াদে রাজনৈতিক ও সরকারি সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রয়েছে।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া, এমপি এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসএকে