জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা ও নেত্রীর বিরুদ্ধে দলের এক কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারী এই কর্মী নিজের পরিচয় না দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং নিজেকে দলের পদ প্রত্যাশী নারী কর্মী বলে দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার সাথে সাংগঠনিক বৈঠকের নামে প্রতারণা করে আবাসিক হোটেলের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয়েছে।
এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রামের নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া তাকে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের বারে সুজার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সুজা মদ্যপ অবস্থায় তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেনু।
আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। পাশাপাশি তিনি দলের সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী ও চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পূর্বপরিচিত সাদিয়া নারীশক্তির কমিটির বিষয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে তাকে চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। এরপর বলেন, আমাকে পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে যেতে বলেন সাদিয়া। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, সেটা একটি মদের বার। সেখানে সুজা উদ্দিন একটি টেবিলে বসা ছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ এবং একমাত্র নারী সাদিয়া বসা ছিলেন। সেখানে বসার পর সুজা তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করেন।
সুজাকে এ সময় তার কাছে মদ্যপ মনে হয়েছে। সুজা মদপানে উৎসাহিত করার পরিস্থিতি বর্ণনা করে তরুণী বললেন, আমাকে ড্রিংকস অফার করা হয়েছে। কী ড্রিংকস আমি নেব, সেটা জানতে চেয়েছিলেন তিনি
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি অস্বস্তিবোধ করলে সাদিয়া ‘সুজা উদ্দিন যেভাবে বলেন, সেভাবে চলার’ জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে সাদিয়া চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে উঠে যান। এরপর সুজা কয়েকবার আমাকে তার পাশে গিয়ে বসার জন্য বলেছেন। তার তাকানো এবং অঙ্গভঙ্গি ছিল যথেষ্ট আপত্তিকর, অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক। আমি যখন প্রস্তাবে সাড়া দিইনি, তখন সুজা উদ্দিন আমাকে বলেন ডিল অর ডেথ। রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগকারী তরুণী আরও বলেন, হোটেল থেকে বেরিয়ে তিনি সাদিয়াকে কল দিয়ে তাকে হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করেন। তখন সাদিয়া তাকে বলেছেন, রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবীধারীদের পার্সোনাল সময় দিতে হয়। এটাই রাজনৈতিক কালচার।
এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান অভিযোগকারী তরুণী।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় সেখানে যান। তিনি অভিযোগকারী তরুণী এবং সঙ্গে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তার ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেন।
রিদুয়ান হৃদয় সময়ের আলোকে বলেন, তিন মিনিটের পরিচয়ে এক নারী কর্মীকে শ্লীলতাহানি করবে কেউ তা বিশ্বাস করবে না। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ আনা সব কিছু অসত্য। সুজা উদ্দিন ষড়যন্ত্রের শিকার। এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত এই মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলেই হয় না। প্রমাণ করতে হয়। অভিযোগকারী কথিত নারী কর্মী নিজের পরিচয় এবং এনআইডি কোথাও দেয়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা