নলছিটি উপজেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চাল বরাদ্দ পাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক প্রকৃতপক্ষে চাল গ্রহণ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখবে এ কমিটি। পাশাপাশি উত্তোলিত চাল কোথায় ব্যবহার হয়েছে তাও তদন্ত কমিটিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিছে জেলা প্রশাসন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গত ২৪ মে নলছিটি উপজেলার ৪১টি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৩ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের নামে বরাদ্দের চাল উত্তোলন এবং তা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
উপজেলার কাঁঠিপাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি বাহাউদ্দিন মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের মসজিদের নামে একটন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি বা মসজিদ পরিচালনা কমিটির কেউ এ বিষয়ে কিছু জানতেন না এবং কোনো চালও পাননি। তাঁদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ চাল উত্তোলন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটিতে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝালকাঠির ফিল্ড সুপারভাইজার এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশকে। আগামী ১১আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে তদন্ত অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তবে বিস্তারিত জানাননি তাঁরা। প্রতিবেদন দাখিলের পরে জানানো হবে বলেও জানান ওই কমিটির একজন।
এ বিষয়ে নলছিটির সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন বলেন, আমার বদলি হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি থাকাকালে সঠিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, আমরা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছি। ৪১টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লাগছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা