স্বপ্ন ছিল দেশে এসে বাড়ির কাজে হাত দিবেন, ছোট বোনের বিয়ের দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। কিন্তু সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে ঋণ শোধের আগেই চলে গেছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের সাব্বির হোসেন শুভ। রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় তার।
উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন শ্রীপুরপাড়া গ্রামের রাব্বানীর ছেলে তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাদের শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
জানা যায়, ভাগ্যের পরিবর্তন করতে প্রায় ৪ বছর আগে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে যান সাব্বির। সংসারে বাবা-মা ও স্ত্রী রয়েছে। ঋণের টাকা কিছু পরিশোধ হলেও বাকী রয়েছে। ছোট বোনের বিয়ের কথা চলছিল। ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন ও বাড়িঘর টাকা নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল সাব্বিরের। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন খাজুরা ইউনিয়নের শামীম হোসেন এবং রবিউল আউয়াল হৃদয়।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান খান জানান, ঘটনাটি জানার পরই জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমাবেদনা জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সার্বিক সহযোগিতা করা যায় তা করা হবে।
অপরদিকে, নলডাঙ্গার তিন প্রবাসীর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সময়ের আলো/আতা