সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শামীম হোসেন। জগত সংসারে ১ মাস আগে জন্ম নেয়া তার কন্যা সন্তানকে ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন রয়ে গেল অধরা। রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, ৮ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে মো. জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে বন্ধক রাখেন জমি। বিয়ের চার বছরেও সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার ও কবিরাজ দেখিয়েছেন। অনেক চেষ্টার পর স্ত্রী গর্ভবতী হন। গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে প্রবাস জীবনে যান শামীম। তাদের সংসারে ১ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
সন্তান হওয়ার খুশিতে আনন্দে দিন কাটছিল প্রবাসী শামীমের। সৌদি আরব থেকে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন আর প্রহর গুনতেন কবে দেশে ফিরে কোলে নিয়ে সন্তানকে আদর করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন তার পূরণ হলো না শামীমের।
নিহতের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান বিদেশে গিয়েছিল। দেশে এসে মেয়ের মুখ দেখবে, আদর করবে, সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। আমার এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। সরকার যেন আমার এতিম নাতনির ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দেয়।
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন সাব্বির হোসেন শুভ এবং রবিউল আউয়াল হৃদয়।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান খান জানান, ঘটনাটি জানার পরই জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমাবেদনা জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সার্বিক সহযোগিতা করা যায় তা করা হবে।
অপরদিকে, নলডাঙ্গার তিন প্রবাসীর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সময়ের আলো/আতা