উৎসবমুখর পরিবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ফুলেল শুভেচ্ছা, শপথগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দীপ্ত প্রত্যয়ে নবীনদের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এ বি এম আজিজুর রহমান নবীনদের নিজ নিজ অনুষদের ডিনদের কাছে পাঠক্রম সম্পাদনের জন্য উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নবীনদের স্বাগত জানানোর পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শপথবাক্য পাঠ করান।
শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আফসানা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রটির পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দীন রুনু। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের উদ্দেশে বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের ওপর। বিশ্বের অনেক দেশ যখন জনসংখ্যা সংকটে ভুগছে, বাংলাদেশে তখন রয়েছে বিশাল জনশক্তি। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার দায়িত্ব তোমাদের মতো শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। শিক্ষাকে হতে হবে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং উদ্ভাবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা বৈশ্বিক পরিসরে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, বরং সম্পদে পরিণত করার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব।
এছাড়া জাকসু প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নতুন শিক্ষাজীবনের সূচনালগ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শিক্ষামন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য নবীন শিক্ষার্থীদের মনে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা।
সময়ের আলো/জোই