বিচার, রুম দখল ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার

2026-06-19T18:34:51+00:00
2026-06-19T18:38:27+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
শিক্ষা
জাবিতে ফের অস্থিরতার শঙ্কা
বিচার, রুম দখল ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম  আপডেট: ১৯.০৬.২০২৬ ৬:৩৮ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের আলোর ফাইল ছবি
দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার, আবাসিক হলে রুম দখলের অভিযোগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ছাত্রলীগের কিছু সাবেক নেতাকর্মী সম্প্রতি আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টারিং এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এই তৎপরতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ২১ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নয়জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তার পদাবনতি ও বেতন অবনমন করা হয়েছে। দুই শিক্ষককে সতর্কীকরণ দেওয়া হয়েছে এবং সাতজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


একই সভায় তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের সক্রিয়তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলনের গতিপথ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নামে পোস্টারিংয়ের ঘটনাও সামনে আসে, যা তাদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা দেখা দেয়।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক সহ-সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতার নামে পোস্টারিংয়ের ঘটনাও ঘটে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

এ বিষয়ে জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। ক্যাম্পাসে পোস্টারিং, বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনো দৃশ্যমানভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছি। কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, ক্যাম্পাসের স্বীকৃত ও ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর বাইরে থেকেও কেউ কেউ পোস্টারিং ও দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই হামলার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে আমরা কাউকে ছাড় দিইনি, আবার কারও প্রতি অন্যায়ও করিনি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিচারের বিষয়ে কারও যৌক্তিক প্রশ্ন থাকলে সিন্ডিকেট চাইলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, জুলাই হামলার বিচারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক, নিষিদ্ধ সংগঠনের কথিত তৎপরতা এবং বিভিন্ন ইস্যুকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   জাবি  অস্থিরতার শঙ্কা  বিচার  রুম দখল  রাজনৈতিক তৎপরতা 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: