সীমান্তে বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণ, প্রতিরোধের মুখে শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম এক মাসেই বিএসএফের হাতে ১২০ একর জমি তুলে দিয়েছেন। ধাপে ধাপে

2026-06-19T23:51:32+00:00
2026-06-19T23:51:32+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সীমান্তে বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণ, প্রতিরোধের মুখে শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম এক মাসেই বিএসএফের হাতে ১২০ একর জমি তুলে দিয়েছেন। ধাপে ধাপে বিএসএফের হাতে আরও ৬০০ একর জমি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণের সময় মুর্শিদাবাদ জেলায় স্থানীয় কৃষকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন ও বিএসএফ।

মুর্শিদাবাদে কেন এই জমি অধিগ্রহণ বন্ধ করা উচিত এবং প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে  তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। এপিডিআরের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক রাহুল চক্রবর্তী প্রতিবেদনটি চিঠির আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন। 

সংগঠনটির তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ মে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকের ঘোষপাড়া সর্বপল্লী ভূতগাড়ির মাঠে কৃষকদের তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে যায় বিএসএফ। কৃষকরা এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখান এবং সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ ও বিএসএফ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন জমি দখল না করার মৌখিক আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। এই ঘটনার পর এপিডিআরের একটি প্রতিনিধি দল মাঠ ও সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলো পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। 

পরিদর্শন শেষে মানবাধিকার কর্মীরা জানান, ভূতগাড়ির মাঠের ১৫ হাজার বিঘা তিন ফসলি জমির ওপর পাঁচটি গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষ নির্ভরশীল। অত্যন্ত উর্বর এই জমিতে সারা বছর পাট, গম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির বাম্পার ফলন হয়। এখানে মাঠের কৃষকদের নিজস্ব জমির পরিমাণ খুব বেশি নয়। কারও এক বিঘা, কারও দেড় বিঘা আবার কারও মাত্র দুই বিঘা জমি রয়েছে। মূলত বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে বংশানুক্রমিকভাবে তারা এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। সরকারি খাতায়ও এই জমির সব তথ্য বৈধভাবে নথিভুক্ত রয়েছে। 


স্থানীয় জলঙ্গি নদীর ব্যাপক ভাঙনে ইতোমধ্যে এলাকার অনেক উর্বর কৃষিজমি নদীতে তলিয়ে গেছে। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর এখন এই মাঠের শেষ সম্বলটুকু চলে গেলে কৃষকরা পথে বসবেন। 

স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের চাষিরাই জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা নতুন সরকার এনেছেন। কিন্তু নতুন সরকার এখন বিএসএফ দিয়ে জমি দখল করানোর চেষ্টা করছে। কৃষকরা জমি রক্ষার প্রশ্নে যে কোনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। 

জেলাশাসককে দেওয়া চিঠিতে এপিডিআর উল্লেখ করেছে, কৃষকদের অসম্মতিতে এই জমি অধিগ্রহণ পশ্চিমবঙ্গের আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করার তীব্র সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকরা যাতে বাংলাদেশি তকমা পাওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে না পারে, সেজন্যই এই ভয়ংকর জনবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

মানবাধিকার সংগঠনটি অবিলম্বে কৃষকদের তিন ফসলি জমি কেড়ে নেওয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারী বলে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা বন্ধ এবং বেআইনি ডিটেনশন সেন্টারগুলো অবিলম্বে তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   সীমান্ত  জমি  অধিগ্রহণ  প্রতিরোধ  শুভেন্দু 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: