ক্রেমলিন থেকে ১০ মাইল দূরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা ইউক্রেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মস্কোর বহুতল ভবনগুলোর ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার যখন ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ক্রেমলিনের সবচেয়ে সুরক্ষিত বাঙ্কারে বসেও

2026-06-20T14:19:30+00:00
2026-06-20T14:19:30+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ক্রেমলিন থেকে ১০ মাইল দূরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা ইউক্রেনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:১৯ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
মস্কোর বহুতল ভবনগুলোর ওপর দিয়ে বৃহস্পতিবার যখন ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ক্রেমলিনের সবচেয়ে সুরক্ষিত বাঙ্কারে বসেও হয়তো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিস্ফোরণের তীব্র আওয়াজ এড়াতে পারছিলেন না। ইউক্রেন আগ্রাসনের জেরে নিজের দেশের ভেতরে তৈরি হওয়া রূঢ় বাস্তবতা থেকে পুতিন নিজেকে এতদিন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ ছিল, মস্কোর বৃহস্পতিবারের চিত্র তা পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ করে দিয়েছে। ক্রেমলিন থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরে একের পর এক তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপর্যুপরি আঘাত রাশিয়ার সুরক্ষিত আকাশসীমার দুর্বলতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মুক্ত করেছে। খবর সিএনএনের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুশ নাগরিকদের পোস্ট করা ভিডিওগুলো থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, মস্কোকে সুরক্ষিত রাখা রাশিয়ার ত্রি-স্তরবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জাল ভেদ করে ঢুকে পড়েছে ইউক্রেনের সস্তা ও গণহারে উৎপাদিত ড্রোন। একসময় ইউক্রেন যে ড্রোনের আঘাতে বিপর্যস্ত হতো, এখন তা দিয়েই তারা প্রতি রাতে রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা আঘাত হানছে। তেল শোধনাগারের ঢাকনা উড়ে যাওয়া এবং ক্রেমলিনের দোরগোড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড মস্কোতে এক বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে শহরটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা রাশিয়ার সাধারণ জনগণকে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ আঁচ এনে দেবে— যেটি থেকে ক্রেমলিন তাদের এতদিন আড়াল করে রাখতে চেয়েছিল।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, মস্কোর সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং তার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা। রুশ কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, জনগণের প্রতিরোধ এবং ভিন্নমতের বহিঃপ্রকাশ রোখা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালের মে মাসে ক্রেমলিনে ক্ষুদ্র ড্রোন হামলার পর থেকেই মস্কোর আকাশ ইউক্রেনীয় ড্রোনের হুমকিতে রয়েছে, যার কারণে গত মাসের ঐতিহাসিক বিজয় দিবসের প্যারেডও নাটকীয়ভাবে কাটছাঁট করতে হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের এই ড্রোন ঝড় ক্রেমলিনের জন্য এক বৈশ্বিক স্পষ্টতার মুহূর্ত এনে দিয়েছে— যেখানে স্পষ্ট যে, ক্রেমলিন এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার রাতের পর রাত চালানো বোমাবর্ষণের মোক্ষম জবাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে গত সোমবার রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র চার্চ কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন থেকে জেলেনস্কি যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ফিরেছেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন সংকটের প্রতি একাধারে উদাসীনতা ও সমর্থন— উভয়ই প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের কাছ থেকে বড় কোনো প্রত্যাশা না রাখলেও জেলেনস্কি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইঙ্গিত পেয়েছেন। তা হলো— আমেরিকা ও ইউরোপের তৈরি অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র, যা বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর মজুদে ফুরিয়ে আসছে, তা এখন ইউক্রেন নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে দেশেই গণহারে উৎপাদন করতে পারবে। এর থেকে বোঝা যায়, টিকে থাকার লড়াইয়ে কিয়েভ এখন ন্যাটোর ধীরগতির ও ব্যয়বহুল ফ্যাক্টরিগুলোর বিকল্প হিসেবে নিজেদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা প্রমাণ করছে।

জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের দোদুল্যমান মনোভাব দেখে তিনি আদৌ শান্তি আলোচনায় আগ্রহী কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ইউরোপীয় নেতারা এখনো আশা করছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ভাষায় কোনো ‘মধ্যম শক্তি’ বা মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে হয়তো আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। গত ১১ দিন আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে একতরফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যা মস্কোর জন্য শুরু থেকেই একটি অগ্রহণযোগ্য শর্ত ছিল।

যুদ্ধক্ষেত্রে অচলাবস্থা এবং রাশিয়ার আকাশসীমা রক্ষায় ব্যর্থতার পর, পুতিন কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কিছু অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শান্তি চুক্তি এবং পুরো ডনবাস অঞ্চল দখল করা দুটি পরস্পর বিরোধী বিষয় নয়। এছাড়া তিনি জার্মানির প্রাক্তন চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারকে ইউরোপের সাথে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাগত জানানোর কথাও বলেছেন। তবে গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় হামলার অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করলেও পুতিনের মূল প্রতিক্রিয়া ছিল আরও বড় ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি।


সময়ের আলো/কহু



  বিষয়:   রাশিয়া  ইউক্রেন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: