তুরস্কের পার্লামেন্টে বিল পাসের ঠিক একদিন আগে রোববার (৯ আগস্ট) দেশটির কারাবন্দী কুর্দি নেতা সালাহউদ্দিন দেমিরতাশ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সাবেক যোদ্ধাদের বেসামরিক জীবনে ফেরানোর প্রস্তাবিত বিলটির প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।
২০১৬ সাল থেকে কারাগারে থাকা দেমিরতাশ কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) সাবেক সহসভাপতি। রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে গেলেও তিনি এখনো তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কুর্দি নেতা হিসেবে বিবেচিত।
দেমিরতাশ বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি তুরস্ক ও পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বিভেদ তৈরি করা, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া বা কোনো ফলহীন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নয়।
পিকেকে ও তুরস্কের মধ্যে ১৯৮৪ সাল থেকে চলা সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করা পিকেকেকে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
পার্লামেন্টের বিচারবিষয়ক কমিটি শুক্রবার বিলটি অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিকেকের সাবেক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও সাজা কার্যকর পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে তারা নতুন কোনো অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো নতুন অপরাধ না হলে মামলাগুলো বন্ধ এবং সাজা শেষ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। কার্যত এটি সাধারণ ক্ষমার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ কিছু গুরুতর অপরাধ এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। ২০০৫ সালের ১ জুনের আগে সংঘটিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধও এর বাইরে রাখা হয়েছে।
পিকেকের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালানের বিষয়টিও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১৯৯৯ সাল থেকে মারমারা সাগরের ইমরালি দ্বীপের কারাগারে বন্দি ওজালান প্রস্তাবিত আইনকে দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র এমএইচপি ও কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টি এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।
এর আগে গত বছর ওজালান পিকেকেকে কংগ্রেস ডেকে অস্ত্র ত্যাগ ও সংগঠনটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কয়েক দশকের সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টায় তার ওই আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়।
সময়ের আলো/আআ