ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরা এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়োলিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, মিজান আলী (৪৫), আক্তার মোল্লা (৩২), বরকত মোল্লা (৪০), তোজিবার মোল্লা (৬৫), ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপ (৪৯), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, তিনজনকে কুষ্টিয়া ও একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান চেয়ারম্যানের ভাই ছোট এবং ফারুক গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত মশিয়ার রহমান (সাবেক ইউপি সদস্য) সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র আমাদের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের লোকজন। আমাদের ৭ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, সামান্য মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাতে সামাজিক দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সামান্য মারামারি হয়, তারই জের ধরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের নেতৃত্বে সকালে বিএনপির কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করে হামলা চালায় এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তবে এটি কোনো দলীয় সংঘর্ষ নয়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাইনি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।
সময়ের আলো/জোই