সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট, উত্তপ্ত নেট দুনিয়া

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির

2026-08-08T22:38:32+00:00
2026-08-08T23:42:56+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট, উত্তপ্ত নেট দুনিয়া
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম  আপডেট: ০৮.০৮.২০২৬ ১১:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেনের পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেট দুনিয়া। অপর দিকে এ ইস্যুতে কড়া ভাষায় বিরূপ মন্তব্য করেছেন একই আসনে জামায়াত সমর্থনে ১১দল মনোনীত ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. ফয়জুল হক এবং ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা গোলাম আজম সৈকত।

এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন, ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই-খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকলাতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন। মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ই আগস্ট একটু দোয়া মোনাজাত করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই, খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।

প্রতি উত্তরে জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে তাঁর ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন, প্রচলিত প্রবাদ (১) পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। (২) চোরের মায়ের বড় গলা। (৩) বুঝলে বুঝপাতা, না বুঝলে তেজপাতা। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। স্ব-স্ব নেতার অনুসারী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরাও পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রদান করেছেন।

সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকতও রফিকুল ইসলাম জামালের রাজনৈতিক অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রফিকুল ইসলাম জামাল নামে ২০০১ সালের আগে কেহ চিনত না। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিভিন্ন সুবিধা নিতে তৎকালীন এমপি ও মন্ত্রী জনাব শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে বিভিন্ন কাজের সহযোগী ও কথিত পার্টনার ছিলেন। গোলাম আজম সৈকতের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ১/১১-এর সময় মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের কূটকৌশলে শাহজাহান ওমর নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় কথিত ওই পার্টনারকে প্রক্সি হিসেবে মনোনয়ন এনে দেওয়া হয়।


সৈকত এ প্রসঙ্গে একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, “ঘরের ইঁদুর বেড়া (বা বাঁশ) কাটলে”—যার অর্থ হলো নিজের কাছের বা ঘরের মানুষ যখন ক্ষতি বা বিশ্বাসঘাতকতা করে, তখন তা রোধ করা বা সামলানো খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তার দাবি, বিষয়টি শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বুঝতে পারেননি, যার কারণে তাকে চরম খেসারত দিতে হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজাপুর-কাঠালিয়া বিএনপি।

গোলাম আজম সৈকত আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পরে ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে নিজের গ্রুপকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করে রফিকুল ইসলাম জামাল। অন্যদিকে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ শক্তি এখনো রাজাপুর-কাঠালিয়ায় সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে।

সবশেষে এমপির ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম আজম সৈকত লেখেন, আজ সোশ্যাল মিডিয়াতে শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের কথিত পার্টনার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকারী রফিকুল ইসলাম জামালের একটি নীতিবাক্য দেখতে পেলাম, যাহা আমাকে একটি প্রবাদ বাক্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়—‘ভূতের মুখে রাম রাম’।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, অসৎ, দুষ্ট বা পাপিষ্ঠ কোনো ব্যক্তির মুখে হঠাৎ ভালো বা ধার্মিক কথা শোনা গেলে তাকে ‘ভূতের মুখে রাম রাম’ বলা হয়।

ফেসবুকে এমপি জামালের ভণ্ডামি উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. ফয়জুল হক তার ফেসবুকে একটি বিশাল মন্তব্য করেন। মন্তব্যে তিনি লিখেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড়ইয়া ইউনিয়নে যার কাঁধে ভর করে আওয়ামী লীগের ভোট এবং সাধারণ জনগণের ভোট সম্পূর্ণ কারচুপি করে, সেন্টার দখল করে, এমনকি আমার ওপর হামলা করে এমপি হয়েছেন, সেই জামাল সাহেব এখন ফেসবুকে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীদের নীতিবাক্য শিখাচ্ছেন।

মন্তব্যের ঘরে তিনি আরও বলেন, শুধু এখানেই নয়, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার সব চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাজনীতি করেছেন এই জামাল সাহেব। নির্বাচনের আগে একটি জনসভায় বলেছিলেন, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের নির্বাচন পর্যন্ত তিনি সঙ্গে রাখবেন। অর্থাৎ, নির্বাচনী তরণী পার হতে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ছাড়া তাঁর উপায় ছিল না। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ বিরোধী এই পোস্ট আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, হয়তো তিনি নতুন কোনো ইনকাম করার ফন্দি-ফিকির করছেন! 

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   সংসদ সদস্য  জেলা পরিষদ প্রশাসক  পাল্টাপাল্টি  ফেসবুক পোস্ট  ঝালকাঠি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: