ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, মাতৃভূমি টুকরো হলেও বাংলা নিজের পরিচয় হারায়নি। শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এই সফরে তিনি প্রথম দিন তারকেশ্বরে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে উঠে আসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, অবিভক্ত বাংলার ঐতিহাসিক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক প্রসঙ্গ।
তিনি বলেন, পরাধীনতার সময় বাংলা নানা ধরনের ত্যাগ ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে গেছে। ১৯৪৬ সালে কলকাতার সহিংসতা এবং নোয়াখালীর দাঙ্গায় বহু নির্দোষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে, নিজের মানুষকে হারিয়েছে, নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে। তবে সবকিছুর মধ্যেও নিজের পরিচয়কে নষ্ট হতে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, পুরো বাংলাকে ভারতের থেকে আলাদা করার একটি চক্রান্ত ছিল। তবে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনের মাধ্যমে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করা হয়েছে। তার মতে, হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রক্ষা পেয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে আগের রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজ্যের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা জনগণকে শোষণ করেছে, তারা এখন লুট করা অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। বড় বড় দুর্নীতিবাজদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছে এবং অবৈধ চাঁদাবাজরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
রোববার কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যে রেড রোডে আগে যানজটের অজুহাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি, সেই একই স্থানে এবার যোগ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে।