বানারীপাড়ায় জাল সনদে বিদ্যালয়ে চাকরি

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বরিশালের বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল ও ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি ও গোপনে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগে উঠেছে

2026-06-20T22:18:18+00:00
2026-06-20T22:18:18+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বানারীপাড়ায় জাল সনদে বিদ্যালয়ে চাকরি
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম 
নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষিকা নাছরীন আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
বরিশালের বানারীপাড়ায় দক্ষিণ নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল ও ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি ও গোপনে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগে উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। 

অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম নাছরীন আক্তার। তিনি ওই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। ১৬ জুন বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী কিশোর কুমার বড়াল বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় নাছরীনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নাছরীনের সনদ জালের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়। এরপর গত ৪ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর করেননি।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন দাফতরিক কাজে ঢাকায় যাওয়ার সুযোগে ১৫ জুন সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তার বিদ্যালয়ে এসে গত ৪ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত পূর্বের সবকটি দিনের স্বাক্ষর একসঙ্গে করে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ১৬ জুন প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষকের হাজিরা খাতার স্বাক্ষরের ঘরে লাল কালির দাগ টেনে দেন। এরপর প্রধান শিক্ষক আবারও দুদিনের জন্য বরিশালে দাফতরিক কাজে গেলে, সেই লাল কালির দাগের ওপরই ১৬ ও ১৭ জুনের ঘরেও জোরপূর্বক স্বাক্ষর করেন নাছরীন আক্তার।


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন বলেন, আমি স্কুলের কাজে ঢাকা ও বরিশালে থাকার সুযোগে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা ওই শিক্ষক হাজিরা খাতায় গোপনে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি আমার দেওয়া লাল কালির দাগের ভেতরেও তিনি স্বাক্ষর করেছেন। ইউএনও মহোদয় তাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করার পরেও তিনি নিয়ম ভেঙেছেন, তাই তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক নাছরীন আক্তার বলেন, আমার সার্টিফিকেট জাল কিংবা ভুয়া নয়। এ ধরনের কম্পিউটার সার্টিফিকেট দিয়ে বিভিন্ন স্কুলে অনেকেই চাকরি করছেন। প্রধান শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করছেন। তিনি দাবি করেন, গোপনে নয়, বরং প্রতিদিন বিদ্যালয়ে গিয়েই তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করার এখতিয়ার কেবল মন্ত্রণালয়ের রয়েছে, ইউএনও বা প্রধান শিক্ষকের নেই।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, তদন্তে ওই সহকারী শিক্ষকের সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনেক আগেই তার বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তখন বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তার বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   বানারীপাড়া  জাল সনদ  বিদ্যালয়  চাকরি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: