ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, এর পেছনেও কাজ করে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সেই বার্তাই বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দিতে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ফুটবল মহাশূন্যে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত নানা প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বর্তমানে ক্রীড়াবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি আকৃষ্ট করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নাসা দেখিয়েছে, কীভাবে মহাকাশ গবেষণা মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে আধুনিক খেলাধুলার উন্নয়নে অবদান রাখছে। সংস্থার ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনের গুরুত্ব বোঝানোই এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নাসা একাধিক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আয়োজিত ফিফা ফ্যান ফেস্টিভালে মহাকাশ গবেষণার নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরিচালিত গবেষণা, ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযান এবং আর্টেমিস কর্মসূচির বিভিন্ন তথ্য দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটবলের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও মহাকাশ গবেষণার ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে পরিচালিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল বলের গতি, ঘূর্ণন, স্থিতিশীলতা ও বায়ুগত আচরণ বিশ্লেষণে সহায়তা করছে।
একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে ফুটবলের অভ্যন্তরীণ ভরবণ্টনের প্রভাব পরীক্ষা করেন। এতে জানা যায়, বলের ভেতরের কাঠামোগত পরিবর্তন তার চলন ও নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এসব তথ্য আধুনিক ফুটবলে ব্যবহৃত সেন্সর প্রযুক্তি এবং বলের পারফরম্যান্স উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এএডি/