যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সোমবার (২২ জুন) তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার এখনো পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন এবং পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত কয়েক মাস ধরেই লেবার পার্টির নেতৃত্বে থাকা এই প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় ও উপনির্বাচনে দলের ফলাফল প্রত্যাশিত না হওয়ায় তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে নর্দার্ন ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনার পর থেকেই দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়।
আরও পড়ুন
‘দ্য অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমার বর্তমানে তার সরকারি গ্রামীণ বাসভবন চেকার্সে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, তিনি সোমবারের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, স্টারমার আগের মতোই দলের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে দৃঢ় রয়েছেন।
শুক্রবার নিজেও এক বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এড়াতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ আরও বাড়িয়েছে একটি পরিসংখ্যান। লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি নির্বাচিত এমপি প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন বা নির্দিষ্ট সময়সূচিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন- এমন বাস্তবতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ২৫ শতাংশ নাগরিক পছন্দ করছেন, যেখানে কিয়ার স্টারমারের সমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ১২ শতাংশে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপ, মন্ত্রিসভায় একাধিক পদত্যাগ এবং নীতিগত বিতর্ক স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এএডি/