মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়া রয়েছেন ৮ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।
রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুদিনের এই সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক রয়েছে তারেক রহমানের। সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করা। এছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা, শিক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তারেক রহমান সোমবার দুপুরের পর কুয়ালালামপুর থেকে রওনা হয়ে চীনের বন্দরনগর দালিয়ানে যাবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৮ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা হলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদার) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন।
মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, ২টি চুক্তি, ১টি কর্মপরিকল্পনা ও ১টি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ( সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কুয়ালালামপুরও। সফর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে কুয়ালালামপুর। পথে পথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং মালয়েশিয়ার পতাকা শোভা পাচ্ছে।
সময়ের আলো/কেআই