জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে : ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি প্রতিনিধি

জাতীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।

2026-08-09T16:46:24+00:00
2026-08-09T16:46:24+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে : ঢাবি উপাচার্য
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম 
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ । ছবি : সময়ের আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে হলে অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রবিবার (৯ আগস্ট ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ কাউসার। উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।


কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কেন তারা রাস্তায় নেমেছিল, কী চিন্তা ও প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল এবং আগামী বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী - এসব জানা ও বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, গণ-অভ্যুত্থানের কারণ ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাগুলোর অনুধাবন করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি একা একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তন কিংবা ধ্বংস করতে পারে না। উপর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি সহযোগী কাঠামো তৈরি হলেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যার প্রভাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও মুক্ত ছিল না। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং ভিন্নমত দমনের মতো ঘটনা ঘটেছে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সেসময় শিক্ষকরা হয়রানি, চাকরিচ্যুতি ও মামলা-মোকদ্দমার শিকার হয়েছেন। শিক্ষক সমিতিতে দায়িত্ব পালনকালে তাকেও নির্দিষ্ট পক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বক্তব্য প্রদানের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবসময় শিক্ষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। ভিন্নমতকে দমন করা কোনোভাবেই গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে উপাচার্য তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। শিক্ষার্থীরা যখন ন্যায্য দাবিতে রাজপথে রক্ত দিচ্ছিল, তখন শিক্ষকরা অফিসে বসে থাকতে পারেন না। আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এখন নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বের হয়ে ইতিবাচক চিন্তার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়; এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিয়ম ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।


উপাচার্য বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়; দায়িত্বই মুখ্য। ‘আমি’ নয়, ‘দেশ’ - এই চিন্তাকে সামনে আনতে হবে। দেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না; আমরা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চাই। অপরাধের বিচার হতে হবে, তবে তা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়, আইনের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়-এমন কোনো কর্মকাণ্ডও কাম্য নয়।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইংরেজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/টিকে


  বিষয়:   জুলাই গণ-অভ্যুত্থান  গণতান্ত্রিক  মূল্যবোধ  ঢাবি উপাচার্য  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: