সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারন করল বিইআরসি

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক (মার্চেন্ট) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অন্যতম বাধা ছিল মূল্য ও মাসুল নির্ধারণ পদ্ধতি। এ বিষয়ে প্রাপ্ত প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি

2026-09-30T22:48:29+00:00
2026-09-30T23:22:05+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারন করল বিইআরসি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৬ ১১:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক (মার্চেন্ট) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অন্যতম বাধা ছিল মূল্য ও মাসুল নির্ধারণ পদ্ধতি। এ বিষয়ে প্রাপ্ত প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে আজ বুধবার মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রির দাম এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে কিনবে বিতরণ সংস্থাগুলো। আগামী অক্টোবর থেকে এ দর কার্যকর হবে।

বিইআরসির আদেশে বলা হয়েছে, ৩৩ কিলোভোল্ট স্তরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কিলোভোল্ট স্তরে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে সঞ্চালন মাশুলও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩০ কিলোভোল্ট স্তরে ইউনিটপ্রতি ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা হারে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে এ মাশুল দিতে হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় ও বিলিংয়ের জন্য একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবির সমন্বয় ও নিষ্পত্তি মাশুল ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৫ পয়সা। আদেশে পরিচালন পদ্ধতি, বিলিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিইআরসি জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল পিডিবি এ বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়। পরে ৭ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এবং ছয়টি বিতরণ সংস্থা পৃথক প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার পর ২৩ আগস্ট গণশুনানি হয়। শুনানিতে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন এ আদেশ দিয়েছে।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। এ ব্যবস্থায় বড় শিল্প ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম ঠিক করবে। তবে বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য ও জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করবে বিইআরসি।

বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য নির্ধারিত সঞ্চালন ও বিতরণ মাশুল দিতে হবে।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গত বছরের অক্টোবরে গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সৌর, বায়ু, জীবভর ও বর্জ্যসহ পরিচ্ছন্ন উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এ নীতিতে সবুজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স নিতে হবে। আইন বা নীতি পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নীতিতে।

সময়ের আলো/টিকে

  বিষয়:   সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা  সৌরবিদ্যুৎ  বিতরণ সংস্থা  কার্যকর অক্টোবরে  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: