রোহিঙ্গা এবং হোস্ট কমিউনিটির প্রতি সম্মান আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় মানুষ, জাতীয়

2026-06-21T19:41:04+00:00
2026-06-21T19:45:29+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
বিবিধ
রোহিঙ্গা এবং হোস্ট কমিউনিটির প্রতি সম্মান আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম  আপডেট: ২১.০৬.২০২৬ ৭:৪৫ পিএম
শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার। ছবি : সময়ের আলো
বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় মানুষ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। কিন্তু দিনে দিনে মানবিক তহবিল ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায়, স্টেকহোল্ডাররা আরও স্বল্পব্যয়ে এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত কার্যক্রমের উপর জোর দিয়েছেন।

রবিবার (২১ জুন) কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে এসব বিষয় উত্থাপন করা হয়।

২০২৬ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (JRP) কক্সবাজার এবং ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় মানুষদের সহায়তা করার জন্য ৭১০.৫ মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত, শুধুমাত্র ৩ হাজার ৬৮৩ মিলিয়ন পাওয়া গেছে, যা অর্ধেকেরও কম। এই পটভূমিতে, স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, স্থানীয় এনজিওগুলিকে মূলত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান ২০২৬ বাস্তবায়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত ছিল।


বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সাড়াদান প্রক্রিয়া জাতিসংঘের ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসেটের’ নীতিগুলিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। রিসেট স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বে এবং বিশ্বব্যাপী সমর্থিত এক মানবিক পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। এটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, স্থানীয় এবং জাতীয় সংগঠনগুলোর জন্য ৭০% পর্যন্ত পুল ফান্ড তহবিল প্রদানের কথা বলে। কিন্তু সাম্প্রতিক UN OCHA-এর ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। এই তহবিলের ৯২% গেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলিতে এবং ৮% আন্তর্জাতিক এনজিওগুলিতে। স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি কোনও তহবিল পায়নি৷ বক্তারা একটি নতুন জয়েন্ট রিপেট্রিয়েশন প্ল্যান "JRP 2.0" ফ্রেমওয়ার্কের জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন, যা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ হবে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। মো. ইকবাল উদ্দিন তার মূল বক্তব্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ভূত এবং স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠনগুলোকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন এবং আরআরআরসি-এর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের সঙ্গে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।


বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি); ডেভিড বাগডেন, রোহিঙ্গা সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের প্রধান; মার্সেল গ্রোগান, ইউএনএইচসিআর-এর স্ট্র্যাটেজিক ওভারসাইট সার্ভিসের প্রধান; মর্জিনা আক্তার, টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান; সৈয়দ মো. আনোয়ার, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি; এনসিপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক; টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী; কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমানসহ আরও অনেকে।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গভীর নলকূপের বিকল্পগুলি অন্বেষণ করে ভূগর্ভস্থ পানির ক্ষয় মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। ডেভিড বাগডেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেন। মার্সেল গ্রোগান সমন্বিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং স্বাগতিক দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সময়ের আলো/মহু




  বিষয়:   রোহিঙ্গা  কক্সবাজার  শরণার্থী  সেমিনার 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: