সরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চায়, যা শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নতুন মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাড) এবং ফলপ্রসূ অবদান রাখবে, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পর্কে জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মূলত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং নানা কারণে মালয়েশিয়ায় আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশিকে মুক্ত করার পথ খোঁজা হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিকেই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করে অভিনন্দন ও আমন্ত্রণ জানান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে জানান, সবশেষ ২০১৪ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় তার ছোট ভাইকে দেখতে এসেছিলেন।
মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই পরিষ্কার আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরাও করছে। বিদেশে এত পরিষ্কার করতে পারলে দেশে কেন পারব না?
এর আগে রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সুসজ্জিত গার্ড অব অনার দেওয়া হয়, এ সময় বাজানো হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে রাত পৌনে দশটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে পৌঁছান।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সম্পূর্ণ সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ, তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা