ফিফা বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ইউরোপীয় পরাশক্তি বেলজিয়ামকে গোলশূন্য সমতায় রুখে দিয়েছে এশিয়ান জায়ান্ট ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন লুকাকু ও ডি ব্রুইনারা, কিন্তু ইরানি রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধে তা গোলে রূপান্তর হতে পারেনি।
প্রথমার্ধেই বেলজিয়ামের নিশ্চিত ৪টি গোল দুর্দান্তভাবে সেভ করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক বনে গেছেন ইরানি গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ।
ম্যাচের শুরুর দিকে প্রথম ১৩ মিনিটেই খেলা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বেলজিয়াম। একের পর এক আক্রমণ করে ইরানের ডিবক্সকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। এই সময়ের মধ্যে বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডরা গোল লক্ষ্য করে ৪টি জোরালো শট নিলেও ইরানি রক্ষণভাগের মানবদেয়ালের মুখে কোনো সাফল্য পায়নি বেলজিয়াম। তবে ম্যাচজুড়ে রক্ষণ সামলালেও স্রোতের বিপরীতে গিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল ইরানও।
ম্যাচের ০১:২১ মিনিটের দিকে দলের কঠিন সময়ে নিজের বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। বেলজিয়ামের আক্রমণের তোড়ের মাঝেই স্রোতের বিপরীতে আচমকা এক পাল্টা আক্রমণ শানায় ইরান। দলটির ডিফেন্ডার হোসেইন কানানি ডিবক্সের ভেতর ঘুরে দাঁড়িয়ে গোলপোস্টের নিচের কোণ লক্ষ্য করে দুর্দান্ত একটি শট নেন।
বলটি নিশ্চিত জালে জড়িয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বল লাইনের ওপর থেকে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তাঁর এই বিশ্বমানের সেভে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইরান।
এরপর ম্যাচের ০১:২৮ মিনিটের দিকে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে সেটপিস থেকে এক কৌশলী ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত এক গোল আদায় করে নিয়েছিল ইরান। তবে লাইন্সম্যানের অফসাইডের পতাকায় ও রেফারির বাঁশিতে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে যায় এশিয়ান জায়ান্টদের সেই গোলটি। শেষ পর্যন্ত তীব্র উত্তেজনা ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম ও ইরান।
সময়ের আলো/জেডি