১৯৭০-এর ব্রাজিল, যাদের ছুঁতে পারেনি সময়

খেলা

মেক্সিকো সিটির জ্বলন্ত রোদে এক দুপুরে শুধু একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়নি, ১৯৭০ সালের ২১ জুনের সেই ম্যাচে জন্ম হয়েছিল এক

2026-06-22T03:57:39+00:00
2026-06-22T03:57:39+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
খেলা
১৯৭০-এর ব্রাজিল, যাদের ছুঁতে পারেনি সময়
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৩:৫৭ এএম 
১৯৭০-এর ব্রাজিল। সংগৃহীত ছবি
মেক্সিকো সিটির জ্বলন্ত রোদে এক দুপুরে শুধু একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হয়নি, ১৯৭০ সালের ২১ জুনের সেই ম্যাচে জন্ম হয়েছিল এক অমর কিংবদন্তির। হলুদ জার্সিতে মোড়া একদল শিল্পী সেদিন ফুটবলকে খেলায় সীমাবদ্ধ রাখেনি, তাকে রূপ দিয়েছিল শিল্পে। 

পেলে, জাইরজিনহো, জারসন, রিভেলিনোদের পায়ের জাদুতে ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর দলের চিরঅমর হয়ে ওঠার কাহিনি। 

রঙিন টেলিভিশন যুগের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই দলের ফুটবল ছিল চোখ ধাঁধানো। উজ্জ্বল হলুদ জার্সি, আক্রমণাত্মক মানসিকতা, ছন্দময় পাসিং আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মিশেলে ব্রাজিল হয়ে উঠেছিল এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রতীক।

ইংলিশ ফুটবল লেখক জনাথন উইলসন লিখেছিলেন, ‘ব্রাজিল তখন আর শুধু ম্যাচ জেতা বা ফলাফলের জন্য খেলছিল না। তারা ফুটবলকে তার সবচেয়ে সুন্দর রূপে প্রকাশ করছিল এবং মানব সামর্থ্যরে সীমাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছিল।’ এই দলের শক্তির মূল ছিল তাদের অসাধারণ খেলোয়াড়দের একাত্মতা। 

বিশ্লেষক মাইকেল কক্সের মতে, এটি ছিল ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ৪-২-৪ ফরমেশনের আরও স্বাধীন ও প্রবাহমান সংস্করণ। দলে ছিলেন পাঁচজন বিশ্বমানের সৃজনশীল ফুটবলার, পেলে, তোস্তাও, রিভেলিনো, জাইর্জিনহো এবং গার্সন। যেন এক দলে পাঁচজন ‘নাম্বার টেন’। ২৯ বছর বয়সি পেলে হয়তো নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ছন্দে ছিলেন না, কিন্তু তবু ছিলেন দলের প্রাণ। 

আর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন জাইরজিনহো। দেশের হয়ে ডান প্রান্তে খেলার সুযোগ পেয়ে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেন তিনি, যা আজও এক অনন্য কীর্তি। এই স্বপ্নের দলের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন কোচ মারিও জাগালো। পেলের সঙ্গে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা জাগালো ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগে। 

তার পূর্বসূরি জোয়াও সিদানহা তৎকালীন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এমিলিও মেডিসির সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে দায়িত্ব হারান।

জাগালোর অধীনে ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে হারায় চেকোস্লভোকিয়া, ইংল্যান্ড ও রোমানিয়াকে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে পেরু এবং সেমিফাইনালে উরুগুয়েকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠে তারা।


ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল ইতালি। সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে কঠিন লড়াই শেষে ফাইনালে ওঠা ইতালি সেদিন ব্রাজিলের ফুটবল-সিম্ফনির সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। পেলে, জারসন ও জাইরজিনহোর গোলের পর আসে সেই অমর মুহূর্ত।

প্রায় পুরো দলকে জড়িয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণে প্রথমে ক্লোডোয়াল্ডো নিজের অর্ধে চারজনকে কাটিয়ে যান। এরপর জাইরজিনহোর দৌড়, পেলের কাছে পাস, তারপর সেই বিখ্যাত নির্লিপ্ত টোকা। আর শেষ দৃশ্যে অধিনায়ক কার্লোস আলবার্টো টরেসের বজ্রগতির শট জালে জড়িয়ে যায়। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে আজও অমর হয়ে আছে সেই মুহূর্তটি।

এই জয়ের মাধ্যমে তিনবার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নেয় জুলেরিমে ট্রফি। পুরো টুর্নামেন্টে অতিরিক্ত সময়ে না গিয়েই সব ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়ে তারা, যা পরে কেবল ২০০২ সালের ব্রাজিলই পুনরাবৃত্তি করতে পেরেছে। 

ফুটবলের ইতিহাসে গ্রেটদের নিয়ে অসংখ্য দল এসেছে, অসংখ্য তারকার জন্ম হয়েছে। কিন্তু ১৯৭০-এর ব্রাজিল যেন অন্য এক উচ্চতার নাম। তারা শুধু বিশ্বকাপ জেতেনি, তারা ফুটবলকে শিল্পে রূপ দিয়েছিল। আর সে কারণেই সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও এই দলটি রয়ে গেছে সৌন্দর্য, আনন্দ আর নিখুঁত ফুটবলের চিরন্তন প্রতীক।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   ১৯৭০ সাল  ব্রাজিল  বিশ্বকাপ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: