বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই লড়ছে প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য। কিন্তু ইরানের লড়াই যেন শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নেই। ভিসা জটিলতা, কঠোর ভ্রমণসূচি এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে টুর্নামেন্টজুড়েই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে কিছুটা ছাড় পেয়েছে ইরান। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের আগে দলটিকে আগের তুলনায় এক দিন বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।
ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এবিসি নিউজকে বলেন, ‘২৬ জুন সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ইরানের তৃতীয় ম্যাচের জন্য দলটিকে ম্যাচের দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ তবে এই অনুমতির সঙ্গে শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে।’ বিশ্বকাপের আগে ইরানের বেসক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নেওয়া হয়। এরপর থেকেই যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে দলটি। তাদের অভিযোগ, ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হচ্ছে এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা দারুণ ফুটবল খেলেছি।’
তিনি দাবি করেন, স্বল্প সময়ের ভ্রমণ, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় প্রবেশ সংক্রান্ত ভিসা জটিলতা এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। তার মতে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বর দল বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছিল ইরান।
রোববার ম্যাচ শেষ করেই সেদিন রাতে আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয় তাদের। এর আগে দুদিন আগে ভ্রমণের অনুমতি চাইলেও তা নাকচ করা হয়েছিল। এ কারণে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কথাও জানিয়েছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি ইরানের অভিযোগ মানতে নারাজ।
সময়ের আলো/আআ