স্বপ্ন, বিদায় আর নকআউটের অঙ্ক

আরমান মুকুল

খেলা

কখনো হলিউডের ঝলমলে আলো, কখনো বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কাঁপতে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস। সেই শহরেই বৃহস্পতিবার রাতে মুখোমুখি হবে দুই ভিন্ন গল্পের

2026-06-25T04:03:41+00:00
2026-06-25T04:03:41+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
খেলা
স্বপ্ন, বিদায় আর নকআউটের অঙ্ক
আরমান মুকুল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৪:০৩ এএম 
তুরস্কের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : সংগৃহীত
কখনো হলিউডের ঝলমলে আলো, কখনো বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কাঁপতে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস। সেই শহরেই বৃহস্পতিবার রাতে মুখোমুখি হবে দুই ভিন্ন গল্পের দুদল। একদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, যারা জয়ের স্রোতে ভেসে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় রাউন্ড। অন্যদিকে তুরস্ক, যাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই, বাকি শুধু সম্মানের শেষ লড়াই। দুটি ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর গল্প। এক দলের চোখে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন, অন্য দলের চোখে বিদায়ের আগে শেষবারের মতো নিজেদের প্রমাণের আকাক্সক্ষা।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও ব্যবধান স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১৭ নম্বরে, আর তুরস্কের অবস্থান ২২। তবে কাগজে-কলমের হিসাবের চেয়েও মাঠের পারফরম্যান্সে পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণ করেছে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় মার্কিনরা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই নকআউট নিশ্চিত করার কীর্তিও গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে তুরস্কের জন্য এই বিশ্বকাপ ছিল হতাশার প্রতিচ্ছবি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় ভিঞ্চেঞ্জো মন্টেলার দল। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট তো দূরের কথা, এখনও গোলের দেখাও পায়নি তারা। ২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করা তুরস্ক এবার যেন নিজেদের ছায়া হয়ে আছে। টানা তিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হারার শঙ্কায় রয়েছে, একই সঙ্গে টানা তিন ম্যাচ গোলশূন্য থাকার সম্ভাবনাও সামনে দাঁড়িয়ে।

শক্তির বিচারে অবশ্য অনেকটাই এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন, টিমোথি ওয়েয়া ও জিও রেইনার মতো তারকাদের নিয়ে আক্রমণভাগে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে তাদের। বিশেষ করে বালোগুনের গোল করার দক্ষতা এবং পুলিসিচের গতি ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তুরস্কের ভরসা মূলত অধিনায়ক হাকান চ্যালহানওগলু, তরুণ তারকা আর্দা গুলের এবং কেনান ইলদিজ। তবে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা থাকলেও গোলের সামনে তাদের দুর্বলতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যানও কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৩০০টি ‘হাই-ইনটেনসিটি প্রেসার’ করেছে মার্কিনরা, যা প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা। এ ছাড়া নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে গোল করেছে তারা। ১৯৩৮ সালের ফ্রান্সের পর প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে এমন কীর্তি গড়ে। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হওয়ায় অধিনায়ক পুলিসিচসহ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে পারেন পচেত্তিনো। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে পারেন তুরস্কের কেনান ইলদিজ। হাকান চ্যালহানওগলুও জাতীয় দলের হয়ে আর একটি গোল করলেই উঠে যাবেন দেশের সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়।

তাই লস অ্যাঞ্জেলেসের আলো ঝলমলে রাতে একদিকে থাকবে ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি, অন্যদিকে বিদায়ের আগে শেষবারের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। কাগজে-কলমে ফেবারিট যুক্তরাষ্ট্র হলেও ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত কোনো গল্পের সমাপ্তি লিখে দেয় না, সেই আশাতেই মাঠে নামবে তুরস্ক।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে সানফ্রান্সিসকোর ঝলমলে আলোর রাতে গ্রুপ ‘ডি’র হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করতে মুখোমুখি হবে দুই ভিন্ন আবহের দুদল। একদিকে নকআউটের স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে, অন্যদিকে শেষ বত্রিশের দরজা খোলা রাখতে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে তাই এটি শুধুই আরেকটি গ্রুপ ম্যাচ নয়, বরং দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকেটের লড়াই। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে প্যারাগুয়ে বর্তমানে ৪১ নম্বরে, আর অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ২৭। র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে দুদলের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই ভিন্ন।

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে যায় সকারুরা। দুই ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে এখনও নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া, তবে শেষ ম্যাচে তাদের জয়ই সবচেয়ে নিরাপদ সমীকরণ। অন্যদিকে ধীরে শুরু করেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে প্যারাগুয়ে। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নেয় তারা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র করলেও নকআউটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে প্যারাগুয়ের।

দুদলের শক্তির জায়গাও ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ। অধিনায়ক ম্যাথিউ রায়ান, মিডফিল্ডার জ্যাকসন ইরভিন এবং তরুণ তারকা নেস্টরি ইরানকুন্ডা দলটির বড় ভরসা। পাশাপাশি ফরোয়ার্ড মিচেল ডিউকের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্যারাগুয়ের মূল শক্তি তাদের শারীরিক ফুটবল এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজ রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেন, আর মাঝমাঠে মিগেল আলমিরনের গতি ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এ ছাড়া স্ট্রাইকার হুলিও এনসিসোর ব্যক্তিগত দক্ষতা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে দুদলই প্রায় সমানে সমান। অস্ট্রেলিয়া গোল করার চেয়ে রক্ষণে বেশি নির্ভরশীল, অন্যদিকে প্যারাগুয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। তাই ম্যাচটি হতে পারে কৌশল, ধৈর্য এবং ছোট ছোট ভুলের ওপর নির্ভরশীল একটি লড়াই। নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে দুদলের কাছেই এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। সানফ্রানসিস্কোর উত্তেজনাপূর্ণ এবং হাড্ডাহাড্ডি একটি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   বিশ্বকাপ  ফুটবল  অস্ট্রেলিয়া 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: