সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ভারতের যেকোনও পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সিন্ধু অববাহিকার পানিতে দেশের প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ইসলামাবাদ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তিনি বলেন, ‘পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই একটি অংশ। যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব—অবশ্যই।’
এর আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধুর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা ভারতের অর্জন হতে পারে।
মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে ভারত এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করে।
নয়াদিল্লির দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে ইসলামাবাদ কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে পানির বণ্টন নিয়ন্ত্রণকারী এই চুক্তির আওতায় অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এ নদী ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ভারতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহে যেকোনও ধরনের বিঘ্ন নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে