আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবারের দিকে ফের শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা। এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই আলোচনার স্থান ঘোষণা করা হয়নি।
বুধবার (২৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, আলোচনার পরবর্তী দফা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্দ্রাবির মতে, আলোচনার জন্য মঙ্গলবারই সবচেয়ে সম্ভাব্য তারিখ, যদিও সোমবার বা বুধবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের অবসানে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত শুক্রবার চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তা পিছিয়ে দেয় ইরান।
সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীও ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এর মধ্যে গত রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে বুর্গেনস্টকে ইরান ও মার্কিন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানের পক্ষে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ওইদিন আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর ইরান ও আমেরিকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করলেও সোমবারও কারিগরি প্রতিনিধিদলগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখে।
মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা আরও জানন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি গত মঙ্গলবার প্রথম দফার কারিগরি আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করে জানান যে, আলোচকরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ‘পারমাণবিক বিষয়াবলী, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন এবং পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন- এই চারটি বিষয়ের জন্য কার্যকরী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ