যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সমঝোতায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় রয়েছে।
তিন দিনের উপসাগরীয় সফরে রুবিও মঙ্গলবার রাতে আবুধাবিতে পৌঁছান। এটি ইরান যুদ্ধ শেষ করার উদ্দেশ্যে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত-পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তার প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
তিনি আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি কর্ম-দুপুরের খাবারে অংশ নেন।
রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ অবশ্যই আলোচনায় আসবে। তিনি আরও জানান, সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত নয়— এমন বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক ইরান ইস্যুতে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন। বরং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।
রুবিও এই সফরে কুয়েত ও বাহরাইনও যাবেন। এই তিনটি দেশেই গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যেখানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ হলো— প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল ইরান সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে কি না। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও চুক্তিতে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই, যা এই দেশগুলোর জন্য বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ।
একই সময়ে আঞ্চলিক পুনর্মিলন আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল সানি ওমানে গিয়ে ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পুনর্মিলন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রুবিওর এই সফর ঘিরে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তিনি কীভাবে তার পূর্বের কঠোর ইরান-বিরোধী অবস্থান এবং বর্তমান প্রশাসনের সমঝোতা নীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন।
চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় বিস্তারিত শর্ত নির্ধারণ করা হবে। ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/ইউএমএইচ