প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারের নামে পণ্য সরানোর অভিযোগ, কর্মকর্তাসহ আটক ৩

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সরকারি নির্দেশনাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের পণ্য সরিয়ে নেওয়ার

2026-06-22T22:53:14+00:00
2026-06-22T22:54:16+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
সারাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারের নামে পণ্য সরানোর অভিযোগ, কর্মকর্তাসহ আটক ৩
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম  আপডেট: ২২.০৬.২০২৬ ১০:৫৪ পিএম
ছবি : সময়ের আলো
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সরকারি নির্দেশনাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কোটি টাকা মূল্যের পণ্যসামগ্রী আটক করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবি সদস্যরা। এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাত ৩টার সময় বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে এ পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এর তথ্যের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক আটককৃত কাভার্ড ভ্যানটিতে উচ্চ মূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত বেনাপোল কাস্টমস হাউস নিলাম শাখা থেকে জারি করা একটি সরকারি পত্রকে ঘিরে। গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই পত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্থায়ী আদেশের আলোকে বেনাপোল কাস্টম হাউসে আটক থাকা ত্রাণযোগ্য পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না। সর্বমোট ৩ হাজার ৫৫৯টি ত্রাণসামগ্রী ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।


পত্রে গুদাম কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীকে পণ্য হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (সিআরডি) সংগ্রহ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কাজে সহায়তার জন্য কাস্টমসের এক কর্মচারীকেও তার সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য দুইটি ট্রাক ভাড়া করা হয়। এর মধ্যে একটি ট্রাকে সরকারি নথিতে উল্লেখিত ত্রাণসামগ্রী তোলা হয়। যেটি কাস্টম অভ্যন্তরে পণ্যবোঝাই অবস্থায় রয়েছে। অপর একটি কাভার্ড ভ্যানে একই পণ্যাগার থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী বোঝাই করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই কাভার্ড ভ্যানটি পরীক্ষামূলকভাবে আগে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র মতে, কাভার্ড ভ্যানটি বেনাপোল কাস্টমস এলাকা ত্যাগ করে মহাসড়ক ধরে বিজিবি ক্যাম্প অতিক্রম করার পর এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালায়। পরে বেনাপোলের দুর্গাপুর মোড় এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়।

সংবাদ লেখা পর্যন্ত বেনাপোল কোম্পানি কমান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ উপস্থিতিতে ভ্যানে থাকা পণ্যের তল্লাশি, তালিকা প্রস্তুত ও গণনার কাজ চলছিল। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভ্যানটিতে থাকা পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ না হলেও এর বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ঘটনার পরপরই বেনাপোল কাস্টমস হাউস এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কাস্টমসের অভ্যন্তরে সাংবাদিক ও বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে কাস্টমস হাউসের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। একইভাবে বিজিবির কর্মকর্তারাও তদন্ত চলমান থাকার কারণ দেখিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে আটক পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ, কীভাবে সেগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছিল এবং কার নির্দেশে পরিবহন করা হচ্ছিল-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত একটি সরকারি চালানকে কেন্দ্র করে কীভাবে একই পণ্যাগার থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের আটককৃত পণ্য বের হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো। ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক অনিয়ম, নাকি সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি জব্দকৃত মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা-তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিরাপত্তা ও গুদাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর কাস্টমসের গুদাম থেকে ১৯ কেজি ৩১৮ গ্রাম স্বর্ণ চুরির ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও দীর্ঘদিন পরও সেই স্বর্ণের কোনো সন্ধান মেলেনি। নতুন এই ঘটনায় কাস্টমসের জব্দকৃত পণ্য সংরক্ষণ, তদারকি ও পরিবহন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  ত্রাণভান্ডার  পণ্য  বেনাপোল  যশোর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: